Saturday, April 25, 2026
Latestরাজ্য​

‘এবার পরিবর্তন না হলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সনাতনীরা শেষ হয়ে যাবে!’, বিস্ফোরক মন্তব্য শুভেন্দু অধিকারীর

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের দিন রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ালেন বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রামে ভোট দেওয়ার পর তিনি বলেন, “এবার যদি বাংলায় পরিবর্তন না আসে, তবে রাজ্য থেকে সনাতন শেষ হয়ে যাবে।”

তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ভোটের দিন এমন মন্তব্যে নির্বাচনী পরিবেশে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিন সকালেই কাঁথির বাসভবন ‘শান্তিকুঞ্জ’ থেকে রওনা দিয়ে নন্দীগ্রামে ভোট দিতে যান শুভেন্দু। টোটোয় চেপে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি। ভোট দেওয়ার আগে ও পরে একাধিকবার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন অভিযোগও তোলেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন ভালো কাজ করছে, তবে এখনও কিছু গুন্ডা এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।” তাঁর অভিযোগ, বিজেপির পোলিং এজেন্টদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় তাদের কাজ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করে শুভেন্দু বলেন, শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু জায়গায় ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

নন্দীগ্রামেই দুটি হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় ভোটারদের ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। পাশাপাশি পিংলার ওসি চিন্ময় প্রামাণিকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে তাঁর অপসারণ ও সাসপেনশনের দাবি করেন। তিনি জানান, এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

এছাড়াও, বিনপুর ও খড়গপুর এলাকায় বিজেপি কর্মীদের হেনস্থার অভিযোগও তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যদিও প্রথম দফায় সেই প্রভাব খুব বেশি দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটদানের হার দ্রুত বাড়তে থাকে। সেই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, “আমি কখনও দেখিনি দুপুর ১২টার মধ্যে ৬০ শতাংশ ভোট পড়ে যেতে।” তাঁর দাবি, হিন্দু ভোটার এবং মহিলারা একজোট হয়ে ভোট দিচ্ছেন, যা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এছাড়া তিনি আরও দাবি করেন, নন্দীগ্রামের প্রায় ৫০টি বুথে তৃণমূলের কোনও এজেন্টই নেই। তাঁর কথায়, “২০২১ সালে আমার সঙ্গে যা হয়েছিল, তার বদলা এবার সুদে-আসলে নেওয়া হয়েছে।”

রাজ্যে এদিন মোট ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ চলছে। এই আবহে একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ ভোটের দাবি করছে, অন্যদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও সামনে আসছে।

শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে হিন্দুত্ব ইস্যুকে সামনে আনার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি, আইন-শৃঙ্খলা ও ভোটের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছেন। তাঁর এই মন্তব্য ভোটারদের একাংশকে প্রভাবিত করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভোটের দিন শুভেন্দুর এই মন্তব্য ও অভিযোগ প্রমাণ করে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং আদর্শ ও ইস্যুর লড়াইতেও পরিণত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই সব বক্তব্য শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে।