Tuesday, April 28, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

বারবার ভেস্তে যাচ্ছে আমেরিকা-ইরান শান্তি চুক্তি, পারমাণবিক ইস্যুই কী মূল বাঁধা?

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী ঘিরে জট কাটার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে গেল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাঠানো প্রস্তাব খারিজ করে দেওয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সূত্রের খবর, স্ট্রেইট অব হরমুজ খোলা নিয়ে পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকার কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল ইরান। সেই প্রস্তাব ঘিরে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসেন ট্রাম্প। কয়েক ঘণ্টার আলোচনার পর তিনি স্পষ্ট করে দেন, অবরোধ তোলার পক্ষে তিনি নন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের শর্তে অসন্তুষ্ট ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

প্রথম দফার আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরেই ইরানের বিভিন্ন বন্দরে অবরোধ জারি করেছে মার্কিন বাহিনী। এর জেরে কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে স্ট্রেইট অব হরমুজ। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে কোনও জাহাজই যাতায়াত করতে পারছে না, ফলে ইরানের অর্থনীতিতে বড়সড় চাপ তৈরি হয়েছে।

ইরান তাদের প্রস্তাবে জানায়, অবরোধ তুলে নিলে তারা হরমুজ়ে বিধিনিষেধ শিথিল করতে রাজি। তবে একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করে দেয়, কোনও শর্তেই পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করা হবে না। এই অবস্থানই মূলত অচলাবস্থার কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ‘ইরান যাতে কোনওভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটাই আমেরিকার প্রধান লক্ষ্য। ফলে এই ইস্যুতে আপসের সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে।’

অন্যদিকে, কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইতিমধ্যেই একাধিক দেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। ওমান সফর শেষে তিনি রাশিয়ায় গিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে পশ্চিম এশিয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে আরাঘচি দাবি করেন, রাশিয়া তাদের পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে, হরমুজ ইস্যুতে সাময়িক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে আমেরিকা-ইরান টানাপড়েন ফের পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ মনে করছে, দ্রুত সমাধান না হলে এর প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারেও।