Tuesday, April 28, 2026
কলকাতা

হলফনামায় সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগ, অদিতির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের তরুণজ্যোতির

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের ঠিক আগের মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে তৃণমূল প্রার্থী অদিতি মুন্সি। তাঁর বিরুদ্ধে মনোনয়নের হলফনামায় ভুয়ো তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। অভিযোগ দায়ের হয়েছে বাগুইহাটি থানায়। এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে অদিতির স্বামী তথা তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধেও।

কী অভিযোগ?

বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারির অভিযোগ, মনোনয়নপত্রে নিজের সম্পত্তি সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেননি অদিতি মুন্সি। তাঁর দাবি, কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অদিতি এবং তাঁর স্বামী একাধিক জমি কিনেছিলেন, কিন্তু সেই সম্পত্তির বিক্রয়মূল্য বা লেনদেনের বিবরণ হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।

এই প্রসঙ্গে তিওয়ারি বলেন, “চোর ধরা পড়েছে। একজন নাগরিক হিসেবে পুলিশের কাছে, আয়কর দফতরে বা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে জানানো আমাদের দায়িত্ব। সেই কারণেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্নের ঝড়

এর আগে ফেসবুক পোস্টে একাধিক প্রশ্ন তোলেন বিজেপি প্রার্থী। তিনি দাবি করেন, সরকারি ‘Banglarbhumi’ এবং ‘WB Registration’ পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, জগদীশপুর মৌজায় উল্লেখযোগ্য জমির মালিকানা থাকা সত্ত্বেও সেই সম্পত্তির উল্লেখ নেই মনোনয়নপত্রে।

তাঁর আরও অভিযোগ, নির্বাচনের ঠিক আগে—২৫ মার্চ ২০২৬—একই দিনে একাধিক সম্পত্তি বিক্রি, হস্তান্তর বা উপহার দেওয়া হয়েছে। কালিম্পং এবং রাজারহাটের জমি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এই লেনদেন আদৌ স্বাভাবিক, নাকি পরিকল্পিত—তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিওয়ারি।

এছাড়া, যাদের কাছে এই সম্পত্তি বিক্রি হয়েছে বলে দাবি, সেই ব্যক্তিদের পরিচয় এবং প্রার্থীর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বিক্রির অর্থ কোথায় গেল, তা ব্যাঙ্ক ব্যালান্স বা বিনিয়োগে প্রতিফলিত হয়নি বলেও অভিযোগ।

আইনি দিক

তরুণজ্যোতি তিওয়ারি দাবি করেছেন, সম্পত্তির তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য প্রদান করলে তা Representation of the People Act, 1951-এর ১২৫এ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পাশাপাশি মিথ্যা হলফনামা দেওয়া Bharatiya Nyaya Sanhita অনুযায়ীও অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

ভোটের আগে রাজনৈতিক চাপানউতোর

প্রচারপর্ব শেষ হওয়ার পরদিনই দ্বিতীয় দফার ভোট। তার আগে এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর তুঙ্গে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল প্রার্থী অদিতি মুন্সি বা তাঁর স্বামীর তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ভোটের আগে এই অভিযোগ কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনই জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।