Thursday, January 22, 2026
Latestরাজ্য​

Jadavpur University Hijab Row: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব বিতর্কে ছুটিতে পাঠানো হলো ইংরেজি বিভাগের প্রধান শাশ্বতী হালদারকে

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালীন দুই ছাত্রীর হিজাব খুলতে বলায় তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছেন ইংরেজি বিভাগের প্রধান শাশ্বতী হালদার। ঘটনার তদন্ত চলছে। এরমধ্যেই সোমবার অধ্যাপিকাকে সাসপেনশনে রাখার সুপারিশ করেছে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি। একই সুপারিশ করেছে রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনও। 

এই ঘটনার জেরে ৭ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৪ দিন ছুটিতে গেলেন ওই অধ্যাপিকা। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে ছুটিতে পাঠানো হয়নি। উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানান, “ছুটিতে পাঠানোর কোন‌ও প্রশ্নই নেই। ব্যক্তিগত কারণে ছুটি চেয়েছিলেন। ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে।”

ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে সুপারিশপত্র পাঠান। তাতে বলা হয়, তদন্ত চলাকালীন বিভাগীয় প্রধান শাশ্বতী হালদার বিশ্ববিদ্যালয়ে না এলেই ভালো হয়। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ছুটিতে গেলেন অধ্যাপিকা শাশ্বতী।

উল্লেখ্য, গত ২২ ডিসেম্বর স্নাতকের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার সময় দুই ছাত্রীকে হিজাব খুলতে বলা হয়। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন পড়ুয়াদের একাংশ। তাদের অভিযোগ, এই আচরণ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক এবং তা ইসলামফোবিয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

যদিও অধ্যাপকরা এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, ‘সম্প্রতি পরীক্ষার সময় জালিয়াতির একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। হুডি পরে কানে হেডফোন লাগিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার মতো ঘটনা সামনে এসেছে। এরফলে নজরদারি আরও কড়া করা হয়েছিল। সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করলে পরীক্ষার্থীদের চেক করা হচ্ছে।’ ওই অধ্যাপকদের বক্তব্য, ‘পরীক্ষার সময় হিজাব পরে আরও কয়েকজন পড়ুয়া পরীক্ষা দিয়েছেন এবং তাদের ক্ষেত্রে কোনও আপত্তি তোলা হয়নি।’

এক অধ্যাপক জানান, ‘গত সপ্তাহে হেডফোন ব্যবহার করার অভিযোগে অন্তত ৪ জন পরীক্ষার্থী ধরা পড়েন, যারা কেউই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নন। সেদিনই হেডফোন কানে লাগিয়ে হুডি পরে পরীক্ষা দিতে থাকা পড়ুয়াকে হাতেনাতে ধরেন পরীক্ষার পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা রিসার্চ স্কলাররা। সেই প্রেক্ষিতেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল।’

ওই অধ্যাপক আরও বলেন, ‘একজন বিশেষভাবে সক্ষম পড়ুয়া হিজাব পরে লাইব্রেরিতে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন এবং তাঁর ক্ষেত্রেও কোনও বাধা দেওয়া হয়নি। তাঁদের মতে, গোটা বিষয়টি নিয়ে অহেতুক বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে ইসলামফোবিয়ার প্রসঙ্গ জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।’

ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৮তম সমাবর্তনেও সরব হন পড়ুয়ারা। বুধবার সমাবর্তনের শেষ পর্বে একটি পোস্টারে প্রতিবাদ জানানো হয়, যেখানে লেখা ছিল, ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামফোবিয়ার কোনও জায়গা নেই।’ স্নাতক ডিগ্রির সম্মান গ্রহণের সময় ইংরেজির স্নাতকোত্তরের প্রথম বর্ষের দুই পড়ুয়া এই প্রতিবাদ জানান।

এদিকে অধ্যাপকদের একাংশ হতাশার সুরে জানিয়েছেন, পড়ুয়াদের এ ধরনের আচরণে তাঁরা বিরক্ত। তাঁদের দাবি, ‘যদি শিক্ষকদের এভাবে অহেতুক নিশানা করা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে উঠবে। পাশাপাশি তাঁরা স্পষ্ট করে জানান, ‘তাঁদের কোনও সহকর্মী ইসলামফোবিয়ায় বিশ্বাসী নন।’