Sunday, February 8, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

বাংলাদেশের পিরোজপুরে হিন্দুদের ৫টি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ফের বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগ। দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে উত্তেজনার আবহের মধ্যেই এবার পিরোজপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ৫টি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, শনিবার ভোরবেলা আগুনে সাহা পরিবারের অন্তত ৩টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ পিরোজপুর সদর উপজেলার পশ্চিম ডুমরিতলা গ্রামে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মধ্যে রয়েছেন পলাশ কান্তি সাহা, শিব সাহা, দীপক সাহা, শ্যামলেন্দু সাহা এবং অশোক সাহা। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, আগুনে তাদের বাড়ির আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।


পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় পলাশ কান্তি সাহার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য আত্মীয়দের বাড়িতে ছিলেন। পলাশ কান্তি সাহা নিজে পিরোজপুর শহরে রাত কাটিয়েছিলেন। ভোরে পরিবারের এক বয়স্ক সদস্য সন্ধ্যা সাহা প্রাতঃকর্ম সেরে ফিরে এসে বাড়িতে আগুন দেখতে পান এবং চিৎকার শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পাশের বাড়িগুলিতেও ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পরে খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা যুগল বিশ্বাস জানান, “অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে দমকল দফতর।”

এই ধরনের ঘটনার জেরে সংখ্যালঘু পরিবারগুলির মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। 

এদিকে, ঘটনায় বিজেপি নেতা অমিত মালব্য সামাজিক মাধ্যম X-এ দাবি করেছেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর লক্ষ্যভিত্তিক হামলা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাঁর অভিযোগ, ‘ইসলামি মৌলবাদীরা পরিকল্পিতভাবে পিরোজপুর জেলার ডুমুরিয়া গ্রামে হিন্দুদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলাকারীরা পলাশ কান্তি সাহাকে বাড়ির ভিতরে তালাবন্দি করে রেখে আগুন লাগায়।’

অমিত মালব্য বলেন, ‘শুধুমাত্র ধর্মের কারণে যদি কোনও সম্প্রদায়কে নিশানা করা হয়, তবে আন্তর্জাতিক মহলের নীরব থাকা উচিত নয়।’

তথ্যসূত্র: দৈনিক ইনকিলাব