সংস্কৃতি ও অর্থনীতির যুগলবন্দী: এই প্রথম কলকাতায় বসছে ‘MCES পশ্চিমবঙ্গ সম্মেলন ২০২৬’-এর আসর
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: “পশ্চিমবঙ্গ আবার নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত”— এই মূল মন্ত্রকে সামনে রেখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এক অনন্য মহাসম্মেলন। ‘মৈত্রী কালচারাল ইকোনমি সমিতি’ (MCES)-এর উদ্যোগে এবং ‘মৈত্রী বোধ পরিবার’-এর সহযোগিতায় আগামী ১৭ই জুলাই, ২০২৬ তারিখে তিলোত্তমায় আয়োজিত হচ্ছে ‘MCES West Bengal Summit Kolkata 2026’। কলকাতার বিলাসবহুল হোটেল ‘ফেয়ারফিল্ড বাই ম্যারিয়ট’-এ সকাল ৯:৩০টা থেকে শুরু হবে এই বিশেষ অনুষ্ঠান।
পূর্ব ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার মেলবন্ধন ঘটানোই এই সম্মেলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
উপস্থিত থাকছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা:
এই মেগা ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভারতের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী শ্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত। এ ছাড়াও সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া রাজ্যমন্ত্রী শ্রীমতী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র এবং পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় স্পিকার শ্রী রথীন্দ্র বোস।

সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য:
‘সংস্কৃতি, সমষ্টি, সমৃদ্ধি’— এই তিন স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরা এবং তার সাথে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি টেকসই যোগসূত্র স্থাপন করাই এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে পূর্ব ভারতকে সাংস্কৃতিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে একটি জাতীয় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই আলোচনা সভার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ইভেন্টের মূল আকর্ষণসমূহ:
বিশেষজ্ঞদের আলোচনা সভা (Expert Sessions): আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ও মন্দির অর্থনীতি, প্রথা ও আচার-অনুষ্ঠান, শিল্প ও ঐতিহ্যের মাধ্যমে জীবনধারা, জাদুঘর পরিচালক, ওআরএফ (ORF) পরিচালক এবং আইআইটি (IIT) অধ্যাপকদের পরিচালনায় পূর্ব ভারতের প্রাচীন সাংস্কৃতিক সংযোগের মতো বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ৫টি বিশেষ সেশন থাকবে।
ওয়ার্কিং পেপার প্রকাশ ও মৌ স্বাক্ষর (MoU Signing): সাংস্কৃতিক অর্থনীতির ওপর একটি গবেষণা-ভিত্তিক ওয়ার্কিং পেপার প্রকাশ এবং গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক বা MoU স্বাক্ষরিত হবে।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা: পূর্ব ভারতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে প্রদর্শন করতে ১ ঘণ্টার একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
গুণীজন সংবর্ধনা: অনুষ্ঠানের সমাপ্তি অধিবেশনে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সম্মাননা ও স্মারক প্রদান করা হবে।
অংশীদার ও সহযোগী সংগঠন:
এই বৃহৎ আয়োজনে সহযোগী পার্টনার হিসেবে রয়েছে ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রক (Ministry of Culture), ই.জেড.সি.সি. (E.Z.C.C.), মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ইনস্টিটিউট অফ এশিয়ান স্টাডিজ, ভারত একাত্মম ফাউন্ডেশন, স্মার্ট ফর ভারত (SMaRT) এবং মাহিন্দ্রা (Mahindra)।
সরকারি উচ্চপদস্থ আধিকারিক, কর্পোরেট লিডার, অর্থনীতিবিদ, গবেষক এবং তরুণ প্রজন্মের মেলবন্ধনে এই সম্মেলন বাংলার সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে আশাবাদী উদ্যোক্তারা।


