Friday, April 10, 2026
Latestআন্তর্জাতিকদেশ

Hormuz Bangladesh: হরমুজে ভারতকে ‘সেফ প্যাসেজ’ দিল ইরান, বাংলাদেশকে ‘নো এন্ট্রি’, আটকে বাংলাদেশি জাহাজ

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বন্ধ হয়ে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ (Strait of Hormuz)। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। এই পরিস্থিতিতে ইরান (Iran) ঘোষণা করেছে, ভারতের পতাকা বহনকারী জাহাজকে ‘সেফ প্যাসেজ’ দেওয়া হবে। তবে সেই সুবিধা পায়নি একটি বাংলাদেশি জাহাজ। ফলে হরমুজ অঞ্চলে আটকে রয়েছে জাহাজটি।

বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘বাংলার জয়যাত্রা’ নামে একটি জাহাজ গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি যায় Jebel Ali Port-এ। কিন্তু তার পরের দিনই ইসরায়েল (Israel) ইরানে হামলা চালালে উত্তেজনা চরমে ওঠে এবং বন্ধ হয়ে যায় হরমুজ (Strait of Hormuz)। সেই সময় জাহাজে ৩১ জন নাবিক ছিলেন।

এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ভারতকে নিরাপদে হরমুজ় প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দেয় ইরান। জানা যায়, ভারতীয় তেরঙ্গা পতাকা থাকলে সেই জাহাজ আটকাবে না ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস। এই ঘোষণার পর বাংলাদেশের নাবিকরাও জাহাজ নিয়ে হরমুজ় পেরনোর চেষ্টা করেন।

কিন্তু বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, জাহাজটি যখন হরমুজ় প্রণালী থেকে প্রায় ৬৬ নটিক্যাল মাইল দূরে, ঠিক তখনই এলাকায় মিসাইল হামলা শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক করে সংযুক্ত আরব আমিরাত (United Arab Emirates Coast Guard)। নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজটি ফের সরে যায় নিরাপদ এলাকায়।

মেরিন ট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জাহাজটি Sharjah-এর উপকূলে নোঙর করে রয়েছে। বাংলাদেশের শিপিং কর্পোরেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর Mahmudul Malek সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হরমুজ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জাহাজে নতুন করে পণ্য তোলার বিষয়েও ভাবা হচ্ছে।

এর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের (Russia–Ukraine War) চলাকালীনও বিপদের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশের আরেকটি জাহাজ ‘সমৃদ্ধি’। ২০২২ সালের ২ মার্চ Olvia Port-এ অবস্থান করার সময় জাহাজটির উপর মিসাইল আঘাত হানে। সেই ঘটনায় নিহত হন ইঞ্জিনিয়ার হাসিদুর রহমান। পরে জাহাজের ২৮ জন নাবিককে উদ্ধার করা হয়।

এদিকে হরমুজ সংকটের মধ্যেই শনিবার ভোরে গ্যাস বোঝাই করে প্রণালী পেরিয়েছে ভারতের দুটি জাহাজ। জানা গিয়েছে, জাহাজ দু’টিতে মোট প্রায় ৯২,৭০০ টন LPG রয়েছে। ১৬ থেকে ১৭ মার্চের মধ্যে সেগুলি গুজরাটের বন্দরে পৌঁছনোর কথা। জ্বালানি সংকটের আশঙ্কার মধ্যে এই জাহাজগুলি ভারতে পৌঁছলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে ভারতের পেট্রলিয়াম মন্ত্রক আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছে, ঘরোয়া LPG সরবরাহ নিয়ে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। হাসপাতাল, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়মিত সিলিন্ডার সরবরাহ বজায় রাখা হচ্ছে