Balen Shah : নেপালের অন্তবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বলেন্দ্র শাহকে চাইছে আন্দোলনকারীরা
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: নেপাল বর্তমানে এক গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি অবশেষে পদত্যাগ করেছেন। তবে পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পরিস্থিতি ক্রমেই আরও জটিল ও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ইতোমধ্যে দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে সরকারি ভবন ভাঙচুর, আগুন জ্বালানো এবং সেনাবাহিনীর ওপর পাথর ছোড়াসহ বিভিন্ন উগ্র কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। এই অস্থির পরিস্থিতিতে জনগণের একাংশ দাবি জানাচ্ছে বলেন্দ্র শাহকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের জন্য।
বলেন্দ্র শাহ, যিনি বর্তমানে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, নেপালের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। শুধু একজন রাজনীতিবিদ হিসেবেই নয়, তিনি একজন সঙ্গীতশিল্পী, কবি ও র্যাপার হিসেবেও পরিচিত। বলেন্দ্রের হাতে থাকা স্বচ্ছতা, আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও জোরালো উদ্যোগ তাকে অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী নেতৃবৃন্দ থেকে আলাদা করে তুলেছে। ২০২২ সালে স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। এরপর থেকে বলেন্দ্র শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদ এবং সুষ্ঠু নগর প্রশাসনের মতো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
বলেন্দ্র শাহ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। কর্ণাটকের বিশ্বেশ্বরীয়া টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর করেছেন বলেন্দ্র। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি সমাজের নানা স্তরের মানুষের সেবায় নিবেদিতপ্রাণ। তার কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে নগর পরিষদের বৈঠক সরাসরি সম্প্রচার, কর ফাঁকি দেওয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পাবলিক স্কুলের মান উন্নয়ন।
বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের জনপ্রিয়তম ১০০ ব্যক্তিত্বের তালিকায় ঠাঁই পাওয়ার পাশাপাশি ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এ উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর স্বচ্ছতা ও তৃণমূল পর্যায়ের রাজনীতির প্রশংসায়। এ ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বলেই প্রমাণ করে বলেন্দ্রের নেতৃত্বর গুণ ও ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা।
নেপালের তরুণ-যুব সমাজ এখন বলছেন, বলেন্দ্র শাহকে মেয়র পদ থেকে উচ্চস্তরের রাজনীতির দিকে এগিয়ে আসতে হবে। তাঁকে জাতীয় নেতৃত্ব গ্রহণ করে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের আহ্বান জানানো হচ্ছে। তাদের দাবি, বলেন্দ্রের নেতৃত্বে নেপাল যেন তিনটি ঐতিহ্যবাহী দলের শাসনতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বালেন শাহকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিলে তিনি দেশের গণতন্ত্র ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবেন বলে বিশ্বাস করছে সাধারণ মানুষ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বলেন্দ্রের মতো তরুণ ও দক্ষ প্রশাসকের হাত ধরে নেপালের রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।


