বৈরিতা ভুলে আরও কাছাকাছি ভারত-চিন, কোনঠাসা আমেরিকা?
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা শুল্ক আরোপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতির মঞ্চে উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিশেষভাবে ভারতের ক্ষেত্রে এই উচ্চ শুল্ক অনেক খাতের ওপর প্রভাব ফেলেছে। চামড়া শিল্প, প্রক্রিয়াজাত পণ্যসহ এমনকি প্রযুক্তিপণ্যের রফতানি খাত এখন মারাত্মকভাবে সংকটে পড়েছে। আমেরিকার শুল্ক আরোপের কারণে ভারতীয় পণ্য মার্কিন বাজার হারাচ্ছে।
ভারত সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছে। আমেরিকার শুল্ক আরোপের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর বিকল্প বাজার খোঁজার পাশাপাশি রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং চিনসহ অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উপরে কাজ শুরু করা হয়েছে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে ভারতীয় রফতানি খাতকে স্থিতিশীল ও প্রসারিত করা।
এই বিশেষ পরিস্থিতিতে ভারত-চিন সম্পর্কও নতুন আঙ্গিকে উন্নয়নের দিকে এগোচ্ছে। বৈরিতা ভুলে একে অপরের পাশে দাঁড়াচ্ছে। চিনের রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং সাফ ঘোষণা করেছেন, ভারতের ওপর মার্কিন শুল্ক আরোপ ‘অন্যায়’। তিনি বলেন, এই সময়ে ভারত ও চিন একে অপরের সহযোগিতা করে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, আমেরিকা শুল্ক আরোপকে একটি ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ।
শু ফেইহং আরও বলেন, ভারত ও চিন উভয়েই সন্ত্রাসবাদের শিকার। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় উভয় দেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজন। বেজিং নয়াদিল্লির সঙ্গে পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কমিউনিটির সহায়তায় কাজ করতে প্রস্তুত। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় এই ধরনের সহযোগিতা যুগোপযোগী ও প্রয়োজনীয় বলেও তিনি জোর দিয়েছেন।
সরকারের অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ হিসেবে বিদেশি বাজারে প্রবেশ পথ খোলা, নতুন চুক্তি, এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি শিল্প সংস্থাগুলোকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারও ঘোষণা দিয়েছে যে, এই বিষয় নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা অব্যাহত থাকবে।
মার্কিন শুল্ক আরোপ ভারত-চিন সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করে তুলতে পারে। দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।


