পশ্চিমবঙ্গে ধরাশায়ী তৃণমূল, আইপ্যাকের চুক্তি বাতিল করলেন অখিলেশ যাদব
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশে ২০২৭-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড়সড় কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে সমাজবাদী পার্টির অন্দরে। ভোটের প্রস্তুতি শুরু হলেও, রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা—ভোটকুশলী সংস্থা IPAC-এর সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন সপা সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব।
সূত্রের খবর, বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের অপ্রত্যাশিত পরাজয় এবং আইপ্যাকের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা—এই দুইয়ের জেরেই এই সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘অজেয়’ ইমেজ নিয়ে চলা আইপ্যাক সাম্প্রতিক নির্বাচনে ধারাবাহিক ব্যর্থতার মুখে পড়ায় তাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
২০১৭ ও ২০২২—পরপর দুই বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর নিজের প্রচার কৌশলে কর্পোরেট ধাঁচ আনতে চেয়েছিলেন অখিলেশ। সেই সময়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শে আইপ্যাকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কলকাতায় বৈঠকের পর চুক্তি চূড়ান্ত হয় এবং উত্তরপ্রদেশে কাজও শুরু করে দেয় সংস্থাটি।
তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে। একদিকে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা, অন্যদিকে সংস্থার এক ডিরেক্টরের গ্রেফতারি—সব মিলিয়ে আইপ্যাকের ভাবমূর্তিতে ধাক্কা লাগে। পাশাপাশি বাংলা ও তামিলনাড়ুর নির্বাচনে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় অখিলেশের আস্থা আরও কমে যায় বলেই মনে করা হচ্ছে।
লখনউতে আইপ্যাকের তৈরি করা বিলাসবহুল অফিস ইতিমধ্যেই গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে খবর। কর্মীদের উপস্থিতিও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক অটুট রয়েছে, তবুও তাঁর সুপারিশ করা সংস্থাকে আর পাশে রাখতে নারাজ সপা নেতৃত্ব।
নতুন করে কৌশল সাজাতে এবার আইপ্যাকের প্রাক্তন কিছু কর্মীকে নিয়ে গঠিত এক নতুন সংস্থার ওপর ভরসা রাখতে চাইছেন অখিলেশ যাদব। ২০২৭-এর নির্বাচনে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে এই পরিবর্তন কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার।


