দীর্ঘ কয়েক দশক পর শ্রীনগরের লালচকে ফিরলো দুর্গাপুজোর বিসর্জন শোভাযাত্রা
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দীর্ঘ কয়েক দশক পর শ্রীনগরের ঐতিহাসিক লালচকে ফের দেখা গেল দুর্গাপুজোর বিসর্জন শোভাযাত্রা। বুধবার মহা দশমীর দিন ঢাকের তালে ‘জয় মা দুর্গা’ ধ্বনি তুলে শোভাযাত্রায় অংশ নেন অসংখ্য ভক্ত। পরে ঝিলম নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
কাশ্মীরের সাংস্কৃতিক উদ্যাপনের ক্ষেত্রে এই ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। শোভাযাত্রায় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পাশাপাশি বাঙালি ও বিহারি সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন।
শোভাযাত্রার পথের দু’পাশে স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় করে উৎসব দেখতে আসেন এবং ভক্তদের শুভেচ্ছা জানান। আয়োজকদের বক্তব্য, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যস্ত শহরের কেন্দ্রস্থল দিয়ে নির্বিঘ্নে শোভাযাত্রা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।
মহারাজা বাজার থেকে শুরু হয় দুর্গাপুজোর বিসর্জন শোভাযাত্রা। ঐতিহাসিক ক্লক টাওয়ার, যা ঘণ্টাঘর নামেও পরিচিত, পেরিয়ে শোভাযাত্রা এগিয়ে যায় আমিরা কদলের দিকে। শোভাযাত্রায় দুর্গা, কালী, লক্ষ্মী ও গণেশের প্রতিমা নিয়ে উৎসবে মাতেন ভক্তরা।
অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য, কয়েক দশক ধরে শ্রীনগরের কেন্দ্রস্থলে এত বড় আকারের বিসর্জন শোভাযাত্রা দেখা যায়নি। তাই এই আয়োজন শহরের প্রকাশ্য ধর্মীয় উদ্যাপনের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
ভক্তরা জানান, স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের উৎসবে সহযোগিতা করেছেন এবং স্বাগত জানানোর পরিবেশ তৈরি করেছেন।
বাঙালি সম্প্রদায়ের সদস্য প্রসেন মণ্ডল বলেন, “সবাই আমাদের সমর্থন করেন। এখানে কোনও বৈষম্য নেই।”
তিনি আরও বলেন, “দুর্গাপুজো আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। এখানে স্থানীয় কাশ্মীরি বাসিন্দা থেকে শুরু করে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং নিরাপত্তারক্ষী—সবাই আমাদের সহযোগিতা করেন। আমরা এখানে থাকি ও কাজ করি। সকলের সহযোগিতায় এবার আরও বড় পরিসরে উৎসব পালন করতে পেরেছি।”
দীর্ঘ কয়েক দশক পর লালচক এলাকায় প্রকাশ্যে দুর্গাপুজোর বিসর্জন শোভাযাত্রা ফিরে আসায় ভক্তদের কাছে এই আয়োজন বিশেষ সাংস্কৃতিক তাৎপর্য বহন করছে। মহা দশমীর ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শ্রীনগরের প্রাণকেন্দ্রে দুর্গাপুজোর সমাপ্তি উদ্যাপন করেন অংশগ্রহণকারীরা।
শোভাযাত্রার শেষ পর্বে দুর্গাপুজোর সমাপ্তি উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলায় অংশ নেন ভক্তরা। আয়োজকদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব সম্পন্ন হওয়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং জননিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের সদস্যরাও এই আয়োজনকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ একসঙ্গে উৎসব উদ্যাপন করার সুযোগ পেয়েছেন।
কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের তরুণী বিদিতা বলেন, “আমার জন্ম ২০১০ সালে। এখানে এমন বিসর্জন আমি কখনও দেখিনি। কাশ্মীরের জন্য এটি প্রথম অভিজ্ঞতা।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলার সংস্কৃতিকে কাছ থেকে অনুভব করতে পেরে এবং এই সম্প্রীতির সাক্ষী হতে পেরে আমি খুব খুশি। আমরা মিছিল করে লালচকে এসেছি, ঘণ্টাঘর গিয়েছি এবং আমিরা কদল হয়ে ফিরেছি। কাশ্মীরে সত্যিই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।”
শোভাযাত্রার পথের দু’পাশে স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় করে উৎসব দেখেন এবং ভক্তদের শুভেচ্ছা জানান। আয়োজকদের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যস্ত শহরের কেন্দ্রস্থল দিয়ে নির্বিঘ্নে শোভাযাত্রা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।
বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ আরও একবার তুলে ধরেছে, কীভাবে সর্বজনীন উৎসব মানুষকে কাছাকাছি আনতে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্প্রীতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

