আড়াই ঘণ্টায় দিল্লি থেকে ঋষিকেশ, মীরাট-ঋষিকেশ নমো ভারত করিডর এবং ঋষিকেশ-কর্ণপ্রয়াগ রেল প্রকল্প
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দিল্লি থেকে উত্তরাখণ্ডের চারধাম অঞ্চলে যাত্রা আগামী দিনে আরও দ্রুত হতে পারে। দিল্লি-এনসিআর এবং উত্তরাখণ্ডের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত মীরাট-ঋষিকেশ নমো ভারত করিডর এবং নির্মীয়মাণ ঋষিকেশ-কর্ণপ্রয়াগ রেললাইন চালু হলে কেদারনাথ ও বদ্রীনাথগামী তীর্থযাত্রীদের যাত্রার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।
দিল্লি থেকে ঋষিকেশ মাত্র আড়াই ঘণ্টায়
মীরাট হয়ে হরিদ্বার ও ঋষিকেশ পর্যন্ত প্রস্তাবিত নমো ভারত সংযোগ তৈরি হলে দিল্লি থেকে ঋষিকেশ পৌঁছনোর সময় কমে প্রায় ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টা হতে পারে। বর্তমানে দিল্লি থেকে মীরাট পর্যন্ত নমো ভারত পরিষেবা রয়েছে।
ঋষিকেশ থেকে কর্ণপ্রয়াগ ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টায়
ঋষিকেশ-কর্ণপ্রয়াগ রেললাইন গড়ে উঠলে গাড়িতে যে যাত্রায় বর্তমানে প্রায় ৬-৭ ঘণ্টা সময় লাগে, তা কমে প্রায় ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টা হতে পারে। ফলে দিল্লি থেকে কর্ণপ্রয়াগ পৌঁছতে মোট সময় প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা হতে পারে, যেখানে সড়কপথে বর্তমানে প্রায় ১২-১৩ ঘণ্টা সময় লাগে।
১২৭ কিলোমিটার রেলপথের ১০৫ কিলোমিটারই সুড়ঙ্গ
হিমালয়ের কঠিন ভূপ্রকৃতির কথা মাথায় রেখে তৈরি হচ্ছে এই রেলপথ। মোট ১২৭ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে প্রায় ১০৫ কিলোমিটার থাকবে সুড়ঙ্গের মধ্যে। প্রকল্পের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এস্কেপ টানেল-১-এর শেষ অংশের সংযোগও সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পটি ২০২৯ সালের মধ্যে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে শিবপুরী-বিয়াসি পর্যন্ত একটি অংশ ২০২৮ সালেই প্রস্তুত হতে পারে।
কেদারনাথ-বদ্রীনাথ যাত্রাও হবে সহজ
এই রেলপথ সরাসরি কেদারনাথ বা বদ্রীনাথ মন্দির পর্যন্ত যাবে না। তবে তীর্থযাত্রীদের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানের অনেক কাছাকাছি পৌঁছে দেবে।
বদ্রীনাথের ক্ষেত্রে কর্ণপ্রয়াগ পর্যন্ত ট্রেনে গিয়ে সেখান থেকে সড়কপথে জোশীমঠ হয়ে বদ্রীনাথ যাওয়া যাবে।
কেদারনাথের ক্ষেত্রে রেলপথ রুদ্রপ্রয়াগ ও তিলানি এলাকার কাছাকাছি পৌঁছে দেবে। সেখান থেকে সড়কপথে গৌরীকুণ্ড যাওয়া যাবে, যেখান থেকেই কেদারনাথের ট্রেক শুরু হয়।
এর ফলে বিশেষ করে বয়স্ক তীর্থযাত্রীদের দীর্ঘ ও ঘুরপথের পাহাড়ি সড়কযাত্রার ভোগান্তি কমতে পারে।
পাঁচটি গড়ওয়াল জেলা উপকৃত হবে
এই রেলপথ দেহরাদুন, টেহরি গড়ওয়াল, পাউরি গড়ওয়াল, রুদ্রপ্রয়াগ এবং চামোলি জেলার বিভিন্ন এলাকার মধ্যে দিয়ে যাবে।
প্রস্তাবিত রুটে মোট ১২টি স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঋষিকেশ, মুনি কি রেতি, শিবপুরী, বিয়াসি, দেবপ্রয়াগ, মালেথা, শ্রীনগর গড়ওয়াল, তিলানি, গৌচর ও কর্ণপ্রয়াগ।
এই রেল যোগাযোগ চালু হলে স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষও উপকৃত হবেন। একইসঙ্গে দিল্লি-এনসিআর ও উত্তর ভারতের অন্যান্য অঞ্চল থেকে পাহাড়ে যাতায়াত আরও সহজ হবে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসতে পারে তীর্থযাত্রীদের ক্ষেত্রে। যাত্রার সময় কমার পাশাপাশি ব্যস্ত ও ভূমিধসপ্রবণ পাহাড়ি সড়কে দীর্ঘ সময় ভ্রমণের ঝুঁকিও কমতে পারে। ফলে প্রকল্প দু’টি উত্তরাখণ্ডের চারধাম যাত্রার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

