Tuesday, September 15, 2026
Latestদেশ

২৫ বছরেই আমেরিকাকে পিছনে ফেলবে ভারত, বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতি হয়ে উঠবে: অর্থনীতিবিদ জেফরি স্যাক্স

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষমতার ভার আগামী কয়েক দশকে আরও বেশি করে এশিয়ার দিকে সরে যেতে পারে। আর এই পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে ভারত। এমনই পূর্বাভাস দিয়েছেন কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ জেফরি স্যাক্স। তাঁর মতে, আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে ভারত ও চিন বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতি হয়ে উঠতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে আমেরিকা তৃতীয় স্থানে চলে যেতে পারে।

স্যাক্সের মতে, ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি বর্তমানে শক্তিশালী। দীর্ঘমেয়াদে এই গতি বজায় থাকলে দেশের অর্থনীতির আকার আরও দ্রুত বাড়তে পারে। তবে ভারত ঠিক কবে বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতি হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য মূলত ভারতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে।

ভারত-চিন অর্থনৈতিক সম্পর্ককেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন স্যাক্স। স্যাক্সের মতে, ভারত ও চীনের সম্পর্ক বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। সীমান্ত সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে দুই এশীয় মহাশক্তির এক হওয়া উচিত। 

রাজনৈতিক ও সীমান্ত সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারত-চিনের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলে তাঁর মত। চিনের প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ এবং ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক বৃদ্ধির মধ্যে সমন্বয় তৈরি হলে উভয় দেশের পাশাপাশি গোটা এশিয়ার অর্থনীতিও লাভবান হতে পারে।

তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) ষষ্ঠ স্থায়ী সদস্য হওয়ার জন্য ভারতের চেয়ে শক্তিশালী দাবিদার আর কোনো দেশের নেই। ভারতের ১.৫ বিলিয়ন জনসংখ্যা, শক্তিশালী অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি এই দাবিকে আরও জোরালো করে। এই বিষয়ে চীনকে এগিয়ে এসে ভারতকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান নিয়ে তিনি একটি অত্যন্ত বিতর্কিত ও জোরালো বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “ভারতের কোয়াড (Quad) জোটে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই, এটি থেকে অবিলম্বে বেরিয়ে আসা উচিত”। তিনি মনে করেন, আমেরিকার স্বার্থে প্রভাবিত না হয়ে ভারতের উচিত চীন, রাশিয়া ও ব্রিকস (BRICS) জোটের সাথে স্বাধীন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখা।

জেফরি স্যাক্স স্পষ্ট ভাষায় ভারতকে সতর্ক করেছেন যেন তারা বাণিজ্য বা নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, মার্কিন রাজনীতিবিদরা ভারতের স্বার্থ নিয়ে ভাবেন না এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে তিনি ‘অসংবিধানিক’ বলে আখ্যা দেন। তাঁর মতে, আমেরিকার আধিপত্য বিস্তারের বা অন্য দেশকে চালনা করার নীতি বন্ধ হলেই বিশ্ব বেশি নিরাপদ হবে। 

স্যাক্সের বিশ্লেষণে, বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র ধীরে ধীরে ফের এশিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ভারত, চিন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চল ও আফ্রিকার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়লে ভারতের সামনে বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে। উৎপাদন, পরিষেবা, প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ বৃদ্ধিও এই সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

তবে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়া আর দেশের প্রতিটি মানুষের আয় সমানভাবে বৃদ্ধি পাওয়া এক বিষয় নয়। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান তৈরি এবং আয়ের বৈষম্য কমানোও ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে আগামী দুই থেকে আড়াই দশক ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।