Saturday, May 2, 2026
Latestরাজ্য​

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই হবে ভোটগণনা, তৃণমূলের দায়ের করা মামলায় হস্তক্ষেপ করলো না সুপ্রিম কোর্ট

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, “কর্মচারী রাজ্যের হোক বা কেন্দ্রের, তাতে কীই বা আসে যায়? সকলেই তো সরকারি কর্মচারী।”

শনিবার সকালে শুরু হওয়া এই মামলার শুনানি দ্রুত শেষ হয়। বিচারপতি পি. এস. নরসিমহা এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল।

কী ছিল মামলার মূল বিষয়

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে আদালতে অভিযোগ করা হয়, ভোট গণনায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগ নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। বিশেষ করে, জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের (DEO) কাছে জারি হওয়া নোটিস দেরিতে জানানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

কপিল সিব্বলের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৩ এপ্রিল নোটিস জারি হলেও তা ২৯ এপ্রিল জানা যায়, প্রতিটি বুথে অনিয়মের আশঙ্কার কথা বলা হলেও তার ভিত্তি স্পষ্ট নয়। আগে থেকেই ‘মাইক্রো অবজার্ভার’ হিসেবে কেন্দ্রীয় কর্মী থাকলেও নতুন করে আরও কেন্দ্রীয় কর্মী কেন প্রয়োজন। সার্কুলারে রাজ্যের প্রতিনিধির কথা বলা হলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।

এছাড়া, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য অনিয়ম নিয়ে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে ইঙ্গিত করছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

তবে আদালত এই যুক্তিতে খুব একটা সন্তুষ্ট হয়নি। বিচারপতিরা স্পষ্ট জানান, সরকারি কর্মচারীরা রাজ্য বা কেন্দ্র—দুই ক্ষেত্রেই একই প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ।

গণনা প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় বা রাজ্য কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আইনগত বাধা নেই। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা করার বাধ্যবাধকতা নেই।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, “যখন নিয়মে এই বিকল্প খোলা রয়েছে, তখন এটিকে বেআইনি বলা যায় না।”

মামলার গুরুত্ব

ভোট গণনার ঠিক আগে এই মামলা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত শুনানির আবেদন করা হয়েছিল, যা আদালত গ্রহণও করে।

তবে শেষ পর্যন্ত আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট—নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপে আপাতত কোনও অসঙ্গতি দেখছে না শীর্ষ আদালত। ফলে ভোট গণনা প্রক্রিয়া পূর্বনির্ধারিত নিয়মেই এগোবে বলেই মনে করা হচ্ছে।