‘তৃণমূলের গুন্ডারা ২৯ তারিখে ঘর থেকে বেরোবে না’, কড়া হুঁশিয়ারি অমিত শাহর
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ চলাকালীনই রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। এই পরিস্থিতিতে জোড়ালো প্রচারে নামলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)।
পুরশুড়ার জনসভা থেকে তৃণমূলকে সরাসরি আক্রমণ করে অমিত শাহ বলেন, “দিদির গুন্ডাদের বলে যাচ্ছি, ২৯ তারিখে তারা যেন ঘরের বাইরে না বেরোয়।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন দলের কর্মীদের বার্তা দিচ্ছেন, তেমনই বিরোধীদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানও তুলে ধরছেন।
অমিত শাহ আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিজেপি কর্মীদের উপর যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য, “৫ তারিখের পর সরকার গঠন হলে প্রত্যেককে জেলে ভরা হবে।” এর মাধ্যমে তিনি আইন-শৃঙ্খলা ইস্যুকে সামনে এনে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন তিনি। শাহ বলেন, “৫ তারিখের পর এমন পরিবেশ তৈরি হবে, যেখানে রাতেও কোনও মেয়ে নির্ভয়ে বাইরে বেরোতে পারবে। কোনও গুন্ডার সাহস হবে না খারাপ নজরে তাকানোর।” তাঁর অভিযোগ, বর্তমান রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি সংকটের মধ্যে রয়েছে, যদিও এখানে একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী আছেন—ইঙ্গিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) দিকে।
অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও কড়া অবস্থান নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে একে একে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে রাজ্য থেকে বের করে দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, এই অনুপ্রবেশই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে খারাপ করছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে।
প্রথম দফার ভোট নিয়েও আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে। তিনি দাবি করেন, “এই দফায় দিদির কোনও গুন্ডার সাহস হয়নি ভোটারদের ভয় দেখানোর।” তাঁর মতে, বিপুল ভোটদানের হারই প্রমাণ করছে যে মানুষ পরিবর্তন চাইছে এবং শাসকদলের বিরুদ্ধে মত দিচ্ছে।
কৃষক ইস্যুতেও একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন অমিত শাহ। পুরশুড়াকে ‘বাংলার আলুর রাজধানী’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নীতির কারণে আলুচাষিরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। তাঁর অভিযোগ, আলু অন্য রাজ্যে পাঠাতে বাধা দেওয়ায় বাজারে দাম কমে যাচ্ছে এবং কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি সরকার গঠন হলে আলু বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার মতো রাজ্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
এছাড়া তিনি জানান, পুরশুড়ায় একটি আধুনিক আলুর বীজ উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এর ফলে বীজের দাম কমবে এবং কৃষকের লাভ বাড়বে। তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে আলুচাষ আরও লাভজনক হয়ে উঠবে এবং এলাকার অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
এই দিন রাজ্যের ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ চলছে। একই দিনে রাজ্যে প্রচারে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও (Narendra Modi)। ফলে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র আকার নিয়েছে।
অমিত শাহের বক্তৃতায় স্পষ্টভাবে কয়েকটি মূল ইস্যু সামনে এসেছে—আইন-শৃঙ্খলা, নারী নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ এবং কৃষকদের সমস্যা। এই বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে বিজেপি তাদের নির্বাচনী কৌশল সাজাচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁর আক্রমণাত্মক ভাষা রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়াচ্ছে, যা নির্বাচনের পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।
ভোটের মাঝেই এমন কড়া রাজনৈতিক বার্তা প্রমাণ করে যে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতির জন্য। অমিত শাহের পুরশুড়ার সভা সেই উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিল। এখন নজর থাকবে, এই সব প্রতিশ্রুতি ও বক্তব্য ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে।


