বড়সড় ভাঙন আম আদমি পার্টিতে, বিজেপিতে যোগ দিলেন রাঘব চাড্ডা-সহ আপের ৭ সাংসদ
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভারতের রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদলের ইঙ্গিত। রাঘব চাড্ডা-সহ আম আদমি পার্টির (AAP) ১০ জন রাজ্যসভা সাংসদের মধ্যে ৭ জন দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দিলেন। শুক্রবার এই ঘটনায় কার্যত বড় ধাক্কা খেল আপ শিবির।
দলত্যাগী সাংসদদের মধ্যে রয়েছেন রাঘব চাড্ডা, স্বাতী মালিওয়াল, হরভজন সিং, অশোক মিত্তল, সন্দীপ পাঠক, রাজিন্দর গুপ্তা, বিক্রম সাহানি। এদিন সন্ধ্যায় চাড্ডা, পাঠক ও মিত্তল বিজেপির সদর দফতরে গিয়ে দলের সভাপতি নীতিন নবীনের সঙ্গে বৈঠকও করেন।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে চাড্ডা দাবি করেন, সংবিধানের বিধান মেনেই দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সাংসদ দলত্যাগ করে বিজেপিতে মিশতে চলেছেন। ইতিমধ্যেই সাতজন সাংসদ স্বাক্ষর করে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে নথি জমা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
চাড্ডার অভিযোগ, আপ তার মূল আদর্শ থেকে সম্পূর্ণ সরে গেছে। তাঁর কথায়, “দুর্নীতি দূর করার লক্ষ্যে তৈরি হওয়া দল আজ দুর্নীতিগ্রস্ত ও আপসকামী ব্যক্তিদের হাতে চলে গেছে।” গত এক বছর ধরে তিনি দল থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন বলেও জানান।
অন্যদিকে বিজেপির নেতৃত্বে নরেন্দ্র মোদী সরকারের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন চাড্ডা। তাঁর দাবি, গত ১২ বছরে কেন্দ্র সরকার সন্ত্রাস দমন থেকে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে একাধিক সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে ‘অপারেশন লোটাস’-এর অভিযোগ তুলে বলেন, পাঞ্জাবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। আপের রাজ্যসভা সাংসদ সঞ্জয় সিং জানিয়েছেন, দলত্যাগী সাংসদদের সদস্যপদ খারিজের দাবিতে তিনি রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন জানাবেন।
উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগেই রাজ্যসভায় উপনেতার পদ থেকে চাড্ডাকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় মিত্তলকে বসানো হয়। এর পরই রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়ে। একই সময়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) মিত্তলের বাড়ি ও তাঁর পরিবারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালায়।
একসময় কেজরিওয়ালের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত চাড্ডা আপের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই যুক্ত ছিলেন। ২০২০ সালে দিল্লি বিধানসভায় জয়ী হয়ে তিনি দ্রুত দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষ করে কেজরিওয়ালের গ্রেফতারের পর, তিনি দলের কার্যকলাপ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন।
অন্যদিকে স্বাতী মালিওয়ালও দলের বিরুদ্ধে সরব হয়ে দুর্নীতি, নারী নির্যাতন এবং পাঞ্জাবে ‘লুটপাট’-এর অভিযোগ তুলে দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
এই ঘটনায় রাজ্যসভার অঙ্কেও বড় প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের শক্তি ১৪১। আপের এই ভাঙন আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে আরও বড় সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


