Monday, April 20, 2026
Latestরাজ্য​

ভোটের মুখে দলবদল, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে হলধর ও অমর মাহাতো

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভোটের আগে পুরুলিয়া জেলার রাজনীতিতে বড়সড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। হঠাৎ করেই বিজেপিতে যোগ দিলেন পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক হলধর মাহাতো এবং রঘুনাথপুরের প্রাক্তন তৃণমূল ব্লক সভাপতি অমর মাহাতো। শনিবার তাঁদের হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দেন পুরুলিয়ার সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো (Jyotirmoy Singh Mahato)।

নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকতেই এই দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিশেষ করে, পুরুলিয়ার মতো জেলায় যেখানে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি, সেখানে এই ধরনের ভাঙন তৃণমূলের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

দলত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হলধর মাহাতো তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁর অভিযোগ, “তৃণমূল এখন আর আগের মতো নেই। দলটি একটি কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে, যেখানে শুধুই টাকার খেলা চলছে। জেলার উন্নয়ন নিয়ে কোনও ভাবনা নেই, বরং ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধিই প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

একই সুর শোনা যায় অমর মাহাতোর গলাতেও। তিনি বলেন, “তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে এই দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। কিন্তু এখন দলটিকে আর চেনা যায় না। কিছু কর্পোরেট গোষ্ঠীর প্রভাব বেড়ে গিয়েছে, কর্মীদের কোনও গুরুত্ব নেই। তাই বাধ্য হয়েই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

দলবদলের পর বিজেপির তরফে এই ঘটনাকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো (Jyotirmoy Singh Mahato) বলেন, “ভালো মানুষরা আর তৃণমূল করতে চাইছেন না। রাজ্যে তৃণমূল সরকার আসার পর থেকেই মহিলাদের উপর অত্যাচার বেড়েছে। সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতাও তারই প্রমাণ। এই দলবদল সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।”

তবে এই ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব। জেলা সভাপতি রাজীব লোচন সোরেন (Rajib Lochan Soren) বলেন, “যাঁরা দল ছেড়ে যাচ্ছেন, তাঁদের সাম্প্রতিক সময়ে দলের কোনও কর্মকাণ্ডে দেখা যায়নি। তাঁরা সাধারণ মানুষের থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছিলেন। ফলে তাঁদের দলত্যাগে তৃণমূলের কোনও ক্ষতি হবে না।”

যদিও বিরোধীদের দাবি, প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও, ভোটের মুখে এই ধরনের দলবদল তৃণমূল শিবিরে চাপ বাড়াচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনাকে সামনে রেখে পুরুলিয়ায় বিজেপি নিজেদের সংগঠন আরও মজবুত করার চেষ্টা করছে।

সব মিলিয়ে, ভোটের আগে পুরুলিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণে এই দলবদল নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, এই ভাঙনের প্রভাব ব্যালট বাক্সে কতটা পড়ে।