Monday, April 20, 2026
Latestরাজ্য​

বুথের চারপাশে ‘লক্ষ্মণরেখা’! বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে শুধুমাত্র ভোটারদের প্রবেশের অনুমতি

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: প্রথম দফার ভোটের বাকি আর মাত্র কটা দিন। আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে এবার একেবারে কড়া অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। ইতিমধ্যেই একাধিক নির্দেশ জারি করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হল পোলিং বুথের চারপাশে ‘লক্ষ্মণরেখা’ টানা।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার প্রতিটি পোলিং বুথের চারপাশে সাদা চক দিয়ে ১০০ মিটার ব্যাসার্ধের একটি বৃত্ত আঁকা হবে। এই নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে শুধুমাত্র ভোটারদের প্রবেশের অনুমতি থাকবে। ভোটার ছাড়া অন্য কোনও ব্যক্তি—তা তিনি রাজনৈতিক কর্মী, এজেন্ট বা সাধারণ মানুষই হোন—এই গণ্ডির মধ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না। মূল লক্ষ্য, ভোটকেন্দ্রের আশপাশে অযাচিত ভিড় এবং প্রভাব খাটানো সম্পূর্ণভাবে রোখা।

এই ‘লক্ষ্মণরেখা’র বাইরে থাকবেন বুথ লেভেল অফিসার (BLO) এবং অন্যান্য সরকারি আধিকারিকরা। তাঁরা প্রাথমিকভাবে ভোটারদের নথি যাচাই করবেন। এরপর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনেই ভোটারদের বুথের ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। জানা যাচ্ছে, বুথের ভিতরে আরও একধাপ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে, যেখানে দুটি আলাদা টেবিলে ভোটারদের পরিচয়পত্র ও নথি পরীক্ষা করা হবে। ভুয়ো ভোটারদের প্রবেশ রুখতেই এই দ্বিস্তরীয় যাচাই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

শুধু বুথ নিরাপত্তাই নয়, ভোটার স্লিপ বিতরণ নিয়েও কড়া নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। জানানো হয়েছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের হাতে স্লিপ তুলে দেবেন বিএলওরা। তবে কেউ যদি স্লিপ না পান, তার পূর্ণ বিবরণ প্রিসাইডিং অফিসারদের কাছে রাখতে হবে। কেন সেই ভোটার স্লিপ পাননি, তার কারণও লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে

ভোটের দিন কোনও ভোটার যদি স্লিপ না পেয়ে বুথে হাজির হন, তাহলে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে না। বরং তাঁর নাম ও ছবি ভোটার তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেই ভোটদানের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে তিনি স্লিপ বিতরণের সময় অনুপস্থিত কেন ছিলেন, সেই বিষয়টিও জানতে চাইবেন প্রিসাইডিং অফিসাররা।

এদিকে, ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে কোনওরকম শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে কমিশন। ভার্চুয়াল বৈঠকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক Manoj Kumar Agarwal সমস্ত প্রশাসনিক আধিকারিকদের সতর্ক করে দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশ, ভোটের দিন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি-দের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, এমনকি সাসপেনশন পর্যন্ত হতে পারে।

সব মিলিয়ে, এবারের ভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন যে কোনও ধরনের অনিয়ম বা অশান্তি রুখতে একাধিক স্তরে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, এই কড়া ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে কতটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন।