Sunday, April 12, 2026
Latestরাজ্য​

‘উত্তরবঙ্গে বন্যার সময় কলকাতায় কার্নিভালের আয়োজন’, মমতাকে বিঁধলেন মোদী

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: রবিবার উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মঞ্চে ফের জোরালো সুরে আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। শিলিগুড়ির জনসভা থেকে তিনি দাবি করলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষ অতীতের মতোই এ বারও বিজেপির উপর আস্থা রাখবেন এবং গেরুয়া শিবির তাদের ‘শক্তঘাঁটি’ অটুট রাখবে।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর লোকসভা ভোট— দুই ক্ষেত্রেই উত্তরবঙ্গে বিজেপির ভালো ফলের কথা তুলে ধরে মোদী বলেন, এই ধারা বজায় থাকবে। তাঁর অভিযোগ, উত্তরবঙ্গকে দীর্ঘদিন ধরেই বঞ্চিত করে এসেছে তৃণমূল সরকার। উন্নয়ন থেকে শুরু করে পরিকাঠামো— সব ক্ষেত্রেই এই অঞ্চলকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে বলেই দাবি তাঁর।

গত বছরের ভয়াবহ বন্যার প্রসঙ্গ টেনে মোদী বলেন, যখন দার্জিলিং, কালিম্পং ও জলপাইগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা প্রবল বৃষ্টি ও নদীর জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত, তখন কলকাতায় দুর্গাপুজোর কার্নিভাল আয়োজন করা হয়েছিল। সেই ঘটনার উল্লেখ করে তিনি তৃণমূল সরকারের সংবেদনশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর কথায়, “উত্তরবঙ্গ যখন দুর্যোগে বিপর্যস্ত, তখন রাজ্য সরকার উৎসবে ব্যস্ত ছিল।”

এ দিন তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে চা-বাগান এলাকার সমস্যাও। চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, জমির পাট্টা প্রদান— এই সমস্ত ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। অসমের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, সেখানে এই বিষয়গুলিতে অগ্রগতি হলেও বাংলায় তা হয়নি।

শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেন্স নেক’ নিয়েও সতর্কবার্তা দেন মোদী। তাঁর অভিযোগ, দেশের অখণ্ডতা নষ্ট করতে চাওয়া ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-কে পরোক্ষভাবে সমর্থন করে তৃণমূল। এই করিডরকে তিনি দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করেন।

একই সঙ্গে বাজেট বণ্টন নিয়েও রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন মোদী। তাঁর দাবি, সংখ্যালঘু তুষ্টির রাজনীতি করতে গিয়ে মাদ্রাসা খাতে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হলেও উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

সব মিলিয়ে, উত্তরবঙ্গের বঞ্চনা, নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন— এই তিন ইস্যুকেই সামনে রেখে শিলিগুড়ির সভা থেকে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করলেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনের আগে এই বার্তা যে উত্তরবঙ্গের ভোটারদের প্রভাবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, তা স্পষ্ট।