ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক, তবে ব্যর্থ হলো আমেরিকা-ইরান শান্তি চুক্তি
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: প্রায় ২১ ঘণ্টার টানা আলোচনা—তবু শেষ পর্যন্ত কোনও শান্তি চুক্তিতে পৌঁছতে পারল না যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান। ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত এই বৈঠক ঘিরে শুরুতে আশার সঞ্চার হলেও, রবিবার সকালে সেই আশায় কার্যত জল ঢেলে দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তাঁর বক্তব্য, আলোচনার ফলাফল ‘হতাশাজনক’ এবং ইরান মার্কিন প্রস্তাবিত শর্ত মানতে রাজি হয়নি।
যুদ্ধবিরতির পরেও অচলাবস্থা
প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা সংঘর্ষের পর, গত মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছিলেন। সেই প্রেক্ষিতেই পাকিস্তান-এর মধ্যস্থতায় দুই দেশ আলোচনায় বসতে সম্মত হয়। উভয় পক্ষই দাবি করেছিল, পাকিস্তানের উদ্যোগেই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে।
শনিবার ইসলামাবাদে মুখোমুখি বৈঠকে যোগ দেয় মার্কিন প্রতিনিধিদল। ভান্সের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন বিশেষ রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জারেড কাশনার। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ।
উত্তপ্ত পরিবেশ, বারবার বিরতি
সূত্রের খবর, দীর্ঘ আলোচনার মাঝে একাধিকবার বিরতি নিতে হয়। কখনও পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, আবার কখনও তা শান্ত হয়। এক পর্যায়ে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের শীর্ষ প্রতিনিধিরা মুখোমুখি আলোচনা করেন। তবু শেষ পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট সমাধানসূত্র বের হয়নি।
মতপার্থক্যই প্রধান বাধা
ভান্সের দাবি, ইরান মার্কিন শর্ত মানতে অস্বীকার করেছে। যদিও তেহরান অন্য ছবি তুলে ধরেছে। ইরান জানিয়েছে, আলোচনা ‘সম্পন্ন’ হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপে দুই পক্ষের প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞরা নথিপত্র আদানপ্রদান করবেন। অর্থাৎ, আলোচনা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি—বরং তা অন্য স্তরে এগোতে পারে।
তবে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য এখনও প্রবল। ইরানের দাবি, বিদেশে আটকে থাকা তাদের সম্পদ মুক্ত করতে হবে এবং লেবাননে ইজরায়েল-এর আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে, ইরানে বন্দি মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দাবিগুলির একটি বলে মনে করা হচ্ছে।
অবিশ্বাসের ছায়া
বৈঠকের আগে ইরানের প্রতিনিধিরা মার্কিন হামলায় নিহত কিছু স্কুলপড়ুয়ার জুতো ও ব্যাগ সঙ্গে নিয়ে যান এবং তা আলোচনায় তুলে ধরেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা স্পষ্ট করে দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের উপর তাদের আস্থা এখনও অটুট নয়।
ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
এই বৈঠকের পর শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা আপাতত অনিশ্চিত। তবে ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনা পুরোপুরি থেমে যায়নি। পরবর্তী বৈঠক কবে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আন্তর্জাতিক কূটনীতির এই জটিল সমীকরণে আপাতত সমাধানের বদলে অনিশ্চয়তাই আরও ঘনীভূত হল।


