আরও দ্রুত CAA-র মাধ্যমে উদ্বাস্তু হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে: মোদী
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: কাটোয়ার জনসভা থেকে শরণার্থী ও মতুয়া ভোটারদের উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। এসআইআর থেকে বিপুল সংখ্যক মতুয়া ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগের আবহে এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে স্পষ্ট জানান, মতুয়া ও নমঃশূদ্র-সহ শরণার্থী পরিবারগুলি কোনওভাবেই তৃণমূলের দয়ার উপর নির্ভরশীল নয়, বরং দেশের সংবিধানই তাঁদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। তিনি বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) কার্যকর করা হয়েছে শরণার্থীদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই এবং এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করা হবে।
উল্লেখ্য, সিএএ ইস্যুতে পূর্বে সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই প্রেক্ষাপটে এবার সিএএ-কে হাতিয়ার করেই মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করলেন প্রধানমন্ত্রী।
একই সঙ্গে অনুপ্রবেশের ইস্যুতেও কড়া অবস্থান নেন মোদী। তাঁর দাবি, রাজ্যে যারা অনুপ্রবেশকারীদের সহায়তা করেছে বা ভুয়ো নথি তৈরি করে দিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন এবং বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির ‘দোকান’ বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং গত ১৫ বছরের শাসনের পূর্ণ হিসেব নেওয়া হবে।
রাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক প্রতিশ্রুতিও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে, বেকার ভাতা দেওয়া হবে এবং দুর্নীতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা, শূন্যপদে নিয়োগ এবং রোজগার মেলার আয়োজনের কথাও বলেন তিনি।
কেন্দ্রীয় প্রকল্প নিয়েও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন মোদী। তাঁর দাবি, পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্প ও আয়ুষ্মান ভারত যোজনার মতো জনমুখী প্রকল্পগুলি রাজ্যে কার্যকর হতে বাধা দিচ্ছে তৃণমূল সরকার। তিনি আশ্বাস দেন, ৪ মে-র পর বিজেপি সরকার গঠিত হলে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই এই প্রকল্পগুলি চালু করা হবে।
সব মিলিয়ে, কাটোয়ার জনসভা থেকে শরণার্থী, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি ও কেন্দ্রীয় প্রকল্প – এই ৪টি ইস্যুকে সামনে রেখে নির্বাচনী বার্তা আরও জোরদার করলেন প্রধানমন্ত্রী।


