Rock singer James: বাংলাদেশে রকস্টার জেমসের কনসার্টে তাণ্ডব চালালো মৌলবাদীরা, পন্ড হলো শো
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বাংলাদেশের জনপ্রিয় রকস্টার জেমসের কনসার্টে মৌলবাদীদের হামলা। ফরিদপুরে জেমসের গানের অনুষ্ঠান চলাকালীন তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত মাঝপথেই বন্ধ করে দিতে হয় জেমসের শো। এই ঘটনায় ২৫ জন আহত হয়েছেন।
ফরিদপুর জেলা স্কুলের ১৮৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। আয়োজকদের দাবি, আয়োজন বা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল না। তবুও অনুষ্ঠান চলাকালীন কিছু বহিরাগত জোর করে ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে। প্রথমে তাদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হলেও, অভিযোগ জোর করে তারা অনুষ্ঠানে প্রবেশ করে এবং এরপরই শুরু হয় তাণ্ডব। ইট-পাথর ছোড়া, ভাঙচুরে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা প্রাঙ্গণে।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সাদা রঙের লাঠি হাতে কয়েকজন ঘোরাফেরা করছেন, চারপাশে রয়েছে প্রচুর ভিড়। বহিরাগতদের বাধা দেওয়ায় তারা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং ইট-পাথর ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত ফরিদপুর জেলা স্কুলের ছাত্ররাই এগিয়ে আসে। বহিরাগতদের আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়ে ১৫ থেকে ২৫ জন ছাত্র ইটের আঘাতে আহত হয়েছে বলে খবর।
Islamist mob attacks concert of Bangladesh’s biggest rockstar James at Faridpur. James has sung for Bollywood also. The mob wants no music or cultural festivals to be held in Bangladesh. James somehow managed to escape. pic.twitter.com/0yNeU0Us9h
— Deep Halder (@deepscribble) December 26, 2025
ক্রমশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে জেমসের অনুষ্ঠান বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন আয়োজকরা। এই ঘটনার পর ফের বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলির নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
জেমসের কনসার্টে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। হতাশা ও উদ্বেগের সুরে লেখিকা লিখেছেন, ‘সংস্কৃতি ভবন ছায়ানট পুড়ে ছাই। গান, নাটক, নৃত্য, আবৃত্তি এবং লোকজ সংস্কৃতির প্রসারের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল চেতনা বিকাশের জন্য গড়ে ওঠা সংগঠন উদীচী পুড়ে ছাই। আজ বিখ্যাত গায়ক জেমসকে অনুষ্ঠানে গান গাইতে দিলো না জিহাদিরা।’
তসলিমা আরও বলেন, ‘সম্প্রতি মাইহার ঘরানার খ্যাতিমান শিল্পী সিরাজ আলী খান ঢাকায় এসে অনুষ্ঠান না করেই ভারতে ফিরে গিয়েছেন। শিল্পী, সংগীত ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আর আসবেন না। একইভাবে প্রয়াত ওস্তাদ রশীদ খানের পুত্র আরমান খানও ঢাকার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। সংগীতবিদ্বেষী পরিবেশে তিনি বাংলাদেশে পা রাখতে চান না।’
ফরিদপুরের এই ঘটনা শুধু একটি কনসার্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর নয়, বরং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিসরে বাড়তে থাকা অসহিষ্ণুতা ও নিরাপত্তাহীনতার দিকেই নতুন করে আঙুল তুলছে।


