Wednesday, April 15, 2026
Latestদেশ

শোরুমের উদ্ধোধনে পাকিস্তানি ইনফ্লুয়েন্সারকে আমন্ত্রণ মালাবার গোল্ডের, বিতর্ক তুঙ্গে

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: তুমুল বিতর্কের মুখে কেরালা-ভিত্তিক জুয়েলারি ব্র্যান্ড মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস (Malabar Gold & Diamonds)। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে একটি নতুন শোরুম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক পাকিস্তানি ইনফ্লুয়েন্সারকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। ওই পাকিস্তানি ইনফ্লুয়েন্সার ভারতীয় সেনা অভিযানের বিরোধিতা করে সামাজিক মাধ্যমে পাকিস্তানের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছিলেন।

‘অপারেশন সিঁদুর’কে কটাক্ষ

৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ বার্মিংহামে মালাবার গোল্ডের সম্প্রসারিত শোরুম উদ্বোধন হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খান। একই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হন পাকিস্তানি ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার আলিশবা খালিদ (Alishba Khalid)। এই অনুষ্ঠানের আগে খালিদ মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-কে ‘কাপুরুষোচিত কাজ’ বলে আখ্যা দেন এবং “পাকিস্তান জিন্দাবাদ” স্লোগান দেন। তিনি আরও বলেন, “এখন অপেক্ষা করুন আমাদের পালা আসবে। এবং আমরা সত্য এবং অটল শক্তির সাথে জবাব দেব (Just wait now our turn will come. And we will answer with truth and unshakable strength).” — যা সরাসরি ভারতকে হুমকি বার্তা।


মালাবার গোল্ডের প্রতিক্রিয়া: ক্ষমা নয়, মামলা

বিতর্ক বাড়তে থাকলেও মালাবার গোল্ড ক্ষমা চায়নি। বরং সংস্থাটি তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও সামাজিক মাধ্যমের সমালোচনাকে “মানহানিকর” বলে দাবি করে বোম্বে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ বিচারপতি সন্দীপ ভি. মার্নে-র আদালতে শুনানিতে সংস্থার আইনজীবী জানান, খালিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল একটি তৃতীয় পক্ষের এজেন্সি — JAB Studios, এবং সেই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল পহেলগাম হামলার আগেই। ফলে খালিদের বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়ে তারা অবগত ছিলেন না। পরবর্তীতে সংস্থাটি তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে বলেও দাবি করা হয়। সংস্থার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, এই সমালোচনাগুলি নাকি ছিল ‘প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরিকল্পিত প্রচার’, যাতে উৎসবের মৌসুমে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত করা যায়। আদালত প্রাথমিকভাবে মালাবারের পক্ষে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এবং ৪৪২টি লিঙ্ক বা পোস্ট মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে।

সমালোচকরা বলছেন— এটি দমিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা। সংস্থার এই আইনি পদক্ষেপ উল্টে নতুন করে জনরোষ বাড়িয়েছে। 

অনেকেই বলছেন, মালাবার গোল্ড আসলে তাদের নিজেদের দায় এড়াতে আইনের কৌশলে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে চাইছে।

সবচেয়ে জোরালো সমালোচনা করেছেন এক্স ব্যবহারকারী বিজয় পটেল (@vijaygajera)। তিনি ৩ অক্টোবর লিখেছেন, “লজ্জিত হওয়ার বদলে মালাবার আদালতে গেছে!”

তিনি জানান, সংস্থার তরফে পাঠানো আইনি নোটিশে তাঁকে সতর্ক করা হয়েছে যে, তাঁর টুইট আদালতের নির্দেশ অমান্য করছে এবং তিনি তিন মাস পর্যন্ত ‘সিভিল প্রিজন’-এ আটক হতে পারেন। প্রতিবাদে পটেল লেখেন, “আমি আমাদের সেনার গৌরব রক্ষার জন্য জেল যেতে রাজি। দেখি কে জেতে — তোমাদের টাকা আর ক্ষমতা, না ভারতের মানুষের সমর্থন।”

সমালোচকদের হুমকি দেওয়া ন্যায়সংগত নয়

সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে বলছেন, মালাবার গোল্ডের এই পদক্ষেপ “কর্পোরেট ভয় দেখানো”-এর দৃষ্টান্ত। তারা দাবি করেছেন, একটি ব্র্যান্ড যদি ভুল ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বিতর্কে জড়ায়, তবে তার দায় এড়িয়ে সমালোচকদের আইনি হুমকি দেওয়া কোনওভাবেই ন্যায়সংগত নয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বয়কট মালাবার গোল্ড ট্রেন্ড করেছে

এই ঘটনার জেরে #BoycottMalabarGold হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। একইসঙ্গে, অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একটি ভারতীয় ব্র্যান্ডের ব্র্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ও যাচাই প্রক্রিয়া কতটা দায়িত্বশীল ছিল, যখন তারা এমন একজন ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানায় যিনি ভারতের সেনা অভিযানের বিরোধিতা করেছিলেন।

তথ্যসূত্র:  The Commune