১৯৭১-এ ধ্বংস করেছিল পাক সেনা, ৫০ বছর পর ঢাকার রমনা কালী মন্দিরের উদ্বোধন করলেন রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ (Ram Nath Kovind) শুক্রবার বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ঐতিহাসিক রমনা কালী মন্দিরের (Ramna Kali Temple) উদ্বোধন করেছেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনারা মন্দিরটি ধ্বংস করে দিয়েছিল। মন্দিরটি উদ্বোধনের পর পুজোও দেন রাষ্ট্রপতি, তাঁর স্ত্রী এবং কন্যা।
৩ দিনের বাংলাদেশ সফরের শেষ দিনে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ রমনা কালী মন্দিরের উদ্বোধন করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে রমনা কালী মন্দির সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেয় পাক সেনা। বহু মানুষকে পাকিস্তানি সেনারা হত্যা করে। বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনের সহায়তায় মন্দিরটি সংস্কার করা হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ ৬০০ বছরের পুরানো মন্দিরের ভিতরে হামলা চালায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। মন্দিরের প্রধান পুজারি শ্রীমৎ স্বামী পরমানন্দ গিরিকেও হত্যা করে পাক সেনারা। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পুরোহিতকে হত্যা করে। হিন্দু পুরুষ, মহিলা এবং শিশুদেরও হত্যা করে পাক সেনারা। অনুমান করা হয় যে মন্দিরটি ভেঙে ফেলার আগে ২৫০ জনেরও বেশি হিন্দুকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করেছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।

মার্কিন আইন প্রণেতা গর্ডন অ্যালট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর একটি মর্মস্পর্শী পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি বলেন, “রমনা কালী মন্দির দেখতে গিয়েছিলাম। ঘরবাড়ি তখনও জ্বলছিল এবং মৃতদেহগুলো অদ্ভুতভাবে রাখা হয়েছিল।”
বাংলাদেশ সরকার মন্দিরটি মূল স্থান থেকে কিছুটা দূরে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। এটি মন্দিরের জন্য আড়াই একর জমি বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু এটির নির্মাণ আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতায় আটকে ছিল। ২০১৭ সালে তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সফরের পরেই মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। ভারত তখন রমনা কালী মন্দির নির্মাণে বাংলাদেশকে সাহায্য করার ঘোষণা দেয়। ভারত সরকার ৭ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। ভক্তনিবাস ও মূল মন্দির পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ বলেন, ‘শতাব্দী প্রাচীন মন্দিরটি ধ্বংস করেছিল পাক সেনা। মন্দির চত্বরের অনেক বাড়ি আক্রমণের শিকার হয়েছিল। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অপারেশন সার্চলাইটের সময় নির্মমভাবে মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল।’
ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ বলেন, ‘ভারতীয়দের হৃদয়ে বাংলাদেশের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। আত্মীয়তা, ভাষা ও সংস্কৃতির বহু পুরনো বন্ধনের ওপর ভিত্তি করে দু’দেশের অনন্য সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গুরুত্ব এবং জনগণের জন্য উন্নত জীবনযাত্রার মান উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ একটি শক্তিশালী অর্থনীতির দিকে বাংলাদেশকে সহায়তা এবং অংশীদারিত্ব করার জন্য ভারতের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।’

গুরুদাস কলেজ থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক এরপর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে ডিজিটাল সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত।

