Saturday, April 18, 2026
কলকাতা

আফগানকে বিয়ে করে সঙ্ঘমিত্রা দফাদার থেকে সোনা খান, আফগানিস্তান থেকে কলকাতায় ফেরার আকুতি

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বলা চলে গোটা আফগানিস্তান এখন তালিবানের দখলে। আফগান নাগরিকরা তালিবানের ভয়ে দেশ থেকে পালাচ্ছেন। তালিবান শাসিত আফগানিস্তান থেকে কলকাতায় ফিরতে চাইলেন সোনা খান। আফগান নাগরিক যরোসা খানকে বিয়ে করে পাড়ি দিয়েছিলেন কাবুলিওয়ালার দেশে। সঙ্ঘমিত্রা দফাদার থেকে সোনা খান হয়ে যান। তার বাপের বাড়ি কলকাতার দক্ষিণ শহরতলী সখেরবাজারে। চার বছর হল সংসারে ভাঙন ধরেছে তাদের। নিজে চাকরি করে সংসার চালান সোনা খান। কিন্তু তালিবান আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার পর সেখানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দুই সন্তানের মা সোনা। ফিরতে চাইছেন কলকাতায়।

পেশায় নার্স সঙ্ঘমিত্রার বাড়িতে ফুরিয়ে আসছে খাবার। বাড়ির বাইরে টহল দিচ্ছে তালিবানরা। তাই বাইরে গিয়ে খাবার সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় ভেঙে পড়লেন বাঙালি এই মেয়ে। জানালেন কলকাতায় ফেরার আকুল আর্জি। কলকাতায় থাকা সঙ্ঘমিত্রার বৃদ্ধ বাবা-মা মেয়ের চিন্তায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। মেয়ে একবার কলকাতায় ফিরলে আর কোনওমতেই তাকে আফগানিস্তান পাঠাতে রাজি নন তাঁরা।

সঙ্ঘমিত্রার বৃদ্ধ বাবা-মা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য। সঙ্ঘমিত্রা বলেছেন, “খুবই আতঙ্কে রয়েছি। একেবারে বন্দি জীবন-যাপন করছি এখানে। নিজের কেউ নেই। নিজের দেশে ফিরতে চাই। কিন্তু বুঝতে পারছি না কার সাথে যোগাযোগ করব। কি করব। কাকে বলব। বাচ্চা দুটোকে নিয়ে আমি একা পড়ে রয়েছি এখানে।”

ভিডিও কলে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলেন সঙ্ঘমিত্রা। দুই সন্তান নিয়ে এখন আটকে আছেন আফগানিস্তানের সারানে। ছেলে আরবাজের বয়স ১৯ বছর, আর মেয়ে হিনা খানের বয়স ৯ বছর।

সঙ্ঘমিত্রা জানান, আফগানিস্তানে যাওয়ার পর থেকে অত্যাচার করতেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ি লোকেরা। পাসপোর্ট পর্যন্ত লুকিয়ে রেখেছিলেন তারা। চার বছর হতে চলল, স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। দ্বিতীয়বার বিয়ে করে আলাদা থাকেন তিনি। ছেলেকে তালিবান দলে টানার চেষ্টা করছে! খুব আতঙ্কে রয়েছি।