Wednesday, April 15, 2026
বলিউড

ইউসুফ সারোয়ার খান থেকে দিলীপ কুমার হয়ে ওঠার গল্প

মুম্বাই: প্রয়াত হলেন কিংবদন্তি বলিউড অভিনেতা দিলীপ কুমার (Dilip Kumar)। মুম্বাইয়ের হিন্দুজা হাসপাতালে বুধবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। তবে জানেন কি কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমারের আসল নাম ইউসুফ সারোয়ার খান (Muhammad Yusuf Khan)। তার বাবা মহম্মদ সারোয়ার খান ছিলেন পেশওয়ারের একজন ফল ব্যবসায়ী।

কৈশোরে মুম্বাই থেকে পুণে গিয়ে ব্রিটিশ সৈন্যদের জন্য পরিচালিত একটি ক্যান্টিনে কাজ নেন ইউসুফ। এর কিছু দিন পর আবারও মুম্বাইয়ে (তৎকালীন বোম্বে) ফিরে বাবার সঙ্গে ব্যবসায় যোগ দেন তিনি। ব্যবসার কাজেই একসময় ইউসুফ খানের পরিচয় হয় সেই সময়কার প্রখ্যাত সাইকোলজিস্ট ডা. মাসানির সঙ্গে, যিনি ইউসুফ খানকে পরিচয় করিয়ে দেন ‘বোম্বে টকিজ’-এর মালিকের সঙ্গে।

১৯৪৩ সালে ইউসুফ খান বোম্বে টকিজে যান চাকরি খুঁজতে। সুদর্শন ইউসুফ খান প্রায়ই বোম্বে যেতেন সিনেমার শুটিং দেখতে এবং সেখানেই দেবিকা রাণীর চোখে পড়েন। তিনি দিলীপ কুমারের কাছে জানতে চান যে তিনি উর্দু পারেন কিনা। দিলীপ কুমার হ্যাঁ বলার পর অভিনেতা হতে চান কিনা জানতে চান দেবিকা রাণী।

সিনেমায় তার নাম বদলের প্রস্তাব দেওয়া হয়। হিন্দি কবি নরেন্দ্র শর্মা তিনটি নাম প্রস্তাব করেন- জাহাঙ্গীর, ভাসুদেব ও দিলীপ কুমার। ইউসুফ খান এর মধ্যে দিলীপ কুমার নামটিই পছন্দ করেন নিজের জন্য। আর তার নাম পরিবর্তনের আরেকটি বড় কারণ ছিলো। সেটি হলো যাতে করে তার রক্ষণশীল বাবা তার এই নতুন পেশার কথা যেন না জানতে পারেন।

তার বাবা ফিল্ম পেশাজীবীদের নিয়ে খুব একটা চিন্তা করেননি। বরং তিনি তাদের নিয়ে তামাশা করতেন। পুরো ক্যারিয়ারে দিলীপ কুমার মাত্র একবার মুসলিম চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং সেটি হলো মুঘল ই আযম। ১৯৪৪ সালে মুক্তি পায় দিলীপ কুমারের প্রথম ছবি ‘জোয়ার ভাটা।’ প্রথম দিকে দিলীপ কুমারের কয়েকটি ছবি ব্যবসাসফল ছিল না।

১৯৬০ সালে ভারতের ইতিহাসের অন্যতম ব্যবসাসফল সিনেমা ‘মুঘল-ই-আযম’ দিলীপ কুমারের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দীর্ঘ ছয় দশকের ক্যারিয়ারে আন্দাজ’, ‘আন’, ‘ক্রান্তি’, ‘শক্তি’, ‘কারমা’, ‘সওদাগর’, ‘দেবদাস’ এবং ‘মুঘল-ই-আযম’ সহ মোট ৬৩টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন দিলীপ কুমার। ৪৪ বছর বয়সে ২২ বছর বয়সী সায়রা বানুকে বিয়ে করেন দিলীপ কুমার। তাদের কোন সন্তান নেই।

Somoresh Sarkar

গুরুদাস কলেজ থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক এরপর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে ডিজিটাল সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত।