দেশের হয়ে জিতেছেন ৪টি সোনা, বিদেশের মাটিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করা সোনাজয়ী অ্যাথলিট অমরদীপ ফুটপাতে সবজি বিক্রি করেছেন
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে চারটি সোনার পদক জিতেছেন ঝাড়খণ্ডের থ্রোবল খেলোয়াড় অমরদীপ। কিন্তু এত সাফল্যের পরও সরকারি চাকরি না পাওয়ায় বর্তমানে সংসার চালাতে সবজি বিক্রি করার পাশাপাশি ক্যাবও চালাতে হচ্ছে তাঁকে।
২৯ বছর বয়সি অমরদীপ ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতের হয়ে চারটি সোনার পদক জিতলেও রাজ্যের ক্রীড়ানীতির কারণে এখনও সরকারি চাকরি পাননি তিনি। ফলে রাঁচির আরগোরা চকে সবজি বিক্রি করেন অমরদীপ। বাড়তি আয়ের জন্য ক্যাবও চালান।
অমরদীপ জানান, তাঁর সতীর্থদের মধ্যে ছত্তিশগড়, হরিয়ানা ও বিহারের অনেক খেলোয়াড় সরকারি চাকরি পেয়েছেন। এমনকি তাঁর সঙ্গে খেলা এবং তাঁর অধিনায়কত্ব করা হরিয়ানার এক খেলোয়াড়ও রাজ্য সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধা পেয়েছেন। কিন্তু অমরদীপের সরকারি চাকরি এবং নগদ পুরস্কারের আবেদন এখনও ঝুলে রয়েছে।
Heartbreaking visuals 💔
Ranchi Gold medalist selling vegetables on road 😢
This is Amardeep Kumar from Ranchi, a throwball player who represented India in Malaysia and won gold medal.
Now he is selling vegetables with medals hanging on the wall 💔💔 pic.twitter.com/oKoqpZumjR
— Desi Lord (@DesiLord_) August 31, 2026
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। প্রাক্তন ঝাড়খণ্ড ক্রীড়ামন্ত্রী হাফিজুল হাসানের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও ফল পাননি।
অমরদীপের পরিবারে রয়েছেন তাঁর বাবা-মা এবং দাদা। তাঁর বাবা সবজি বিক্রি করেন এবং সেই ব্যবসায় অমরদীপও সাহায্য করেন। তাঁর মা গৃহবধূ হলেও বাড়ি বাড়ি ঘুরে সবজি বিক্রি করেন। প্রায় ৩৫ কেজি সবজি মাথায় নিয়ে তাঁকে ঘুরতে হয়। তাঁর দাদা একটি ফাস্ট-ফুডের দোকান চালিয়ে পরিবারের আয়ে অবদান রাখেন।
অমরদীপ জানান, ২০১৬ সাল থেকেই তিনি সরকারের কাছে ক্রীড়া-সাফল্যের জন্য পুরস্কার বা আর্থিক সহায়তার আবেদন করে আসছেন। কিন্তু এখনও কোনও সরকারি সহায়তা পাননি।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে তাঁকে অনেক সময় ধার করেও টাকা জোগাড় করতে হয়েছে। যদিও এই যাত্রায় ঝাড়খণ্ড থ্রোবল অ্যাসোসিয়েশন তাঁকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে।
মালয়েশিয়ায় একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে অমরদীপকে ₹৬৫,০০০ টাকা ধার করতে হয়েছিল। তাঁর পরিবার এবং ঝাড়খণ্ড থ্রোবল অ্যাসোসিয়েশন মিলে সেই অর্থ জোগাড় করে। মোট খরচের প্রায় অর্ধেক বহন করেছিল অ্যাসোসিয়েশন।
২০২০ সাল থেকেই সরকারি চাকরির চেষ্টা করছেন অমরদীপ। তবে করোনা মহামারির কারণে সেই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ২০২২ সালে ফের চাকরির জন্য চেষ্টা শুরু করেন তিনি এবং এখনও সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অমরদীপ বলেন, তাঁর জীবন প্রতিনিয়ত কঠোর পরিশ্রম ও সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে চলছে। রাত পর্যন্ত ক্যাব চালানোর কারণে পরদিন সকালে প্রশিক্ষণে যাওয়াও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও কাজ এবং খেলাধুলা—দুই দিকই সামলে এগিয়ে চলেছেন তিনি। হার মানার কোনও ইচ্ছা তাঁর নেই।
২০২৬ সালের অক্টোবরের শেষদিকে শ্রীলঙ্কায় একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাওয়ার কথা রয়েছে অমরদীপের।
২০১৫ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান জুনিয়র থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের হয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক সোনা জেতেন অমরদীপ। এরপর ২০১৭ সালে কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত ইন্দো-নেপাল থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০১৯ সালে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ান থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০২৬ সালে রাঁচিতে অনুষ্ঠিত একই প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসরে সোনা জেতেন তিনি।
অমরদীপের এই দুর্দশার বিষয়টি এবার ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের নজরেও এসেছে। তিনি তাঁর X অ্যাকাউন্টে বিষয়টি নিয়ে পোস্ট করে ক্রীড়া দফতরকে দ্রুত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার এবং উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর পোস্টের পর ঝাড়খণ্ডের ক্রীড়ামন্ত্রী সুদিব্য সোনু সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিদ্যমান ক্রীড়ানীতির আওতায় কীভাবে অমরদীপকে চাকরি দেওয়া যায়, তা সরকার খতিয়ে দেখছে। পাশাপাশি তাঁর জন্য অন্য কোনও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এবারই প্রথম নয়, এর আগেও এমন দৃশ্য সামনে এসেছে। পদক জয়ের পর প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ফাইল আটকে থাকে বছরের পর বছর। আর ক্রীড়াবিদদের অমরদীপের মতো দুর্দশায় জীবনযাপন করতে হয়।

