Wednesday, April 29, 2026
Latestরাজ্য​

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে কড়া নজরদারি, গত ৬০ ঘণ্টায় গ্রেফতার ২,৪৭৩ জন

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জোরদার তৎপরতা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৬০ ঘণ্টায় ভোটমুখী এলাকা থেকে মোট ২,৪৭৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়।

কমিশনের হিসাব বলছে, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ৪১ জন করে গ্রেফতার হয়েছেন। বুধবার সাতটি জেলার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। ইতিমধ্যেই ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে দ্বিতীয় দফায় কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবার আরও সতর্ক কমিশন।

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বাড়তি পুলিশ পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ, তল্লাশি অভিযান এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র সোমবার রাতেই ৮০৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে।

যদিও দ্বিতীয় দফার আগে কয়েকটি জায়গা থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর সামনে এসেছে। সোমবার প্রচারের শেষ দিনে আরামবাগে তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে, মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় কমিশন নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার কনভয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ও তাঁর সমর্থকরা। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।

এই প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—ভোট শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাই তাদের লক্ষ্য। সূত্রের খবর, মূলত সম্ভাব্য গোলমাল এড়াতে ‘ঝামেলাবাজ’দের আগাম গ্রেফতার করা হচ্ছে।

এর আগে কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবিবার দুপুর থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ১,০৯৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই হিসাব আরও বাড়িয়ে এবার ৬০ ঘণ্টার মোট চিত্র সামনে আনা হয়েছে। যদিও কোন জেলা থেকে ঠিক কী অভিযোগে এই গ্রেফতারি হয়েছে, তার বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

জেলা ভিত্তিক পূর্ববর্তী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রেফতারির নিরিখে শীর্ষে ছিল পূর্ব বর্ধমান (৪৭৯)। এরপরই ছিল উত্তর ২৪ পরগনা (৩১৯) এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা (২৪৬)। এছাড়া হুগলিতে ৪৯ জন এবং নদিয়ায় ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় দফার ভোট ঘিরে কড়া নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে রাজ্যকে। কমিশনের নজর এখন একটাই—যাতে ভোটের দিন কোনও অশান্তি ছাড়াই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।