আদর্শের নামে ‘বুজরুকি’, ছত্তিশগড়ে আত্মসমর্পণ করলেন ১৬ মাওবাদী
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের নারায়ণপুর জেলায় বুধবার সন্ধ্যায় আত্মসমর্পণ করলেন ১৬ জন মাওবাদী। বস্তারের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে আত্মসমর্পণের ঘটনা বাড়ছে। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা উচ্চপদস্থ নেতা না হলেও মাওবাদী সংগঠনের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। তাঁদের মধ্যে কেউ জনতা সরকার, কেউ চেতনা নাট্যমণ্ডলী বা মাওবাদীদের পঞ্চায়েত স্তরের বাহিনীর সদস্য ছিলেন।
নারায়ণপুর জেলার পুলিশ সুপার রবিনসন গুড়িয়া জানান, এই ১৬ জন মাওবাদী সংগঠনের ‘ফাঁপা’ আদর্শ, নিরীহ আদিবাসীদের ওপর চলমান অত্যাচার এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে হতাশ হয়ে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁরা সংগঠনের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য খাবার, ওষুধ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহ করতেন। এছাড়াও নিরাপত্তাবাহিনীর গতিবিধির তথ্য সংগঠনের হাতে পৌঁছে দেওয়া ছিল তাদের দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছেন, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে মাওবাদীদের নির্মূল করা হবে। ছত্তিশগড়ে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি, রাজ্য সরকার দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক পুনর্বাসন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। গত বছর ‘নিয়া নার নিয়া পুলিশ’ (আমাদের গ্রাম, আমাদের পুলিশ) প্রচার কর্মসূচি চালু করে স্থানীয় জনগণকে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংযুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তার আগেই ২০২০ সালের জুনে ‘লোন ভারাতু’ (গোন্ড ভাষায় ‘তোমার বাড়ি ফিরে যাও’) পুনর্বাসন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল।
ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই গত মার্চে ‘নকশাল আত্মসমর্পণ এবং আক্রান্তদের পুনর্বাসন নীতি ২০২৫’ ঘোষণা করেন। এই নীতির আওতায় আত্মসমর্পণকারীদের চাকরি, আর্থিক সহায়তা ও আইনি সুরক্ষার পাশাপাশি উচ্চপদস্থ ক্যাডারদের অনুদানের ব্যবস্থাও রয়েছে। বুধবার আত্মসমর্পণকারী ১৬ জন মাওবাদীর প্রত্যেককে প্রাথমিকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এরপর সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তাঁদের পূর্ণ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
এমন পদক্ষেপে মাওবাদীদের সশস্ত্র হিংসার পথ থেকে সরিয়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। আত্মসমর্পণের এই ঢল দেশজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


