Tuesday, April 23, 2024
আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশে যৌনদাসী হিসেবে পাচারকালে রোহিঙ্গা তরুণীসহ ২ মাওলানা আটক

ত্রাণ বিতরণের নামে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আসা দুই মাওলানা এক সুন্দরী রোহিঙ্গা তরুণীকে পাঁচারকালে ধরা পড়েছেন। জানা গেছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রোহিঙ্গা শিবির থেকে ওই সুন্দরী তরুনীকে কক্সবাজারের হোটেলে ফুর্তি করতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের উখিয়া ডিগ্রী কলেজ সংলগ্ন সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে হাতে-নাতে ধরা পড়েন রোহিঙ্গা তরুণীসহ মওলানাদ্বয়।

সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠ জানিয়েছে, পরে ধৃতদের সেনাবাহিনীর সদস্যরা উখিয়া থানার পুলিশের নিকট সোপর্দ করেন। পুলিশ থানায় এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোহিঙ্গা তরুণীকে ছেড়ে দিলেও ভ্রাম্যমান আদালত আটক হওয়া ২ মওলানাকে ৭ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।

দণ্ডিত মাওলানাদ্বয় হলেন, সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার জামাল নগর এলাকার আবু বক্কর ছিদ্দিকের ছেলে মুফতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম (৩৭) ও খুলনা জেলার পাইকগাছা থানার বেতবুনিয়া এলাকার ফাতেউল সরদারের ছেলে মাওলানা মোঃ হারুন অর রশিদ (৩৬)। আটক বালুখালী ১নং রোহিঙ্গা বস্তির তরুণী খালেদা বেগমকে (২০) তার পিতার কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরে এসব ‘ধান্দাবাজ ত্রাণদাতা’দের উপ্রদব এত ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে যে, আমরা তাদের সামাল দিতে রীতিমত হিমসিম খাচ্ছি।

জেলা প্রশাসক বলেন, এর আগেও ত্রাণ দেয়ার নামে শিবিরে ঢুকে নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৮৬ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাদেরও বেশির ভাগ নিজেদের আলেম-ওলামা পরিচয়ধারি ব্যক্তি-জানান জেলা প্রশাসক।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন- আটক মাওলানাদ্বয় সর্ম্পকে আমি তাদের স্ব স্ব এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি তারা দুইজনই বিবাহিত।

তাদের উভয়েরই ঘর-সংসার থাকা সত্বেও এই রোহিঙ্গা তরুণীকে ফুসলিয়ে কক্সবাজার শহরের হোটেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তিনি জানান, ইতিমধ্যে এরকম নারীসহ মানব পাচারকারী ও মাদক পাচারকারীসহ নানা অপরাধে ৫ শতাধিক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।