Monday, February 2, 2026
Latestদেশ

উত্তরপ্রদেশে গত ৮ বছরে ২০৪ কোটিরও বেশি বৃক্ষরোপণ যোগী সরকারের 

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে উত্তরপ্রদেশ এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। আট বছরের শাসনকালে রাজ্যটি শুধু সুশাসনের মডেলেই পরিণত হয়নি, বরং পরিবেশ সংরক্ষণে নজির গড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নাগরিক পরিষেবার উন্নতির পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় যোগী সরকারের উদ্যোগ আজ সারা দেশের কাছে অনুকরণীয় উদাহরণ।

পরিবেশ সংরক্ষণে বিপ্লব

যোগী সরকারের সবুজ বিপ্লবের সাফল্য আজ সারা দেশে প্রশংসিত। পরিবেশ রক্ষায় বড় পদক্ষেপ হিসেবে গত আট বছরে রাজ্যজুড়ে ২০৪ কোটিরও বেশি বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। এর ফলে বনভূমির আয়তন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালের ফরেস্ট স্টেটাস রিপোর্ট অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশে নতুন করে ৫৫৯.১৯ বর্গ কিলোমিটার বনভূমি তৈরি হয়েছে। ‘পেড় লাগাও, পেড় বাঁচাও অভিযান ২০২৪’-এর আওতায় এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে, যার কৃতিত্ব মূলত বন, পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন দপ্তরের।

কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও কার্বন ক্রেডিট

পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নেও নজর দিয়েছে যোগী প্রশাসন। প্রথমবারের মতো উত্তরপ্রদেশের কৃষকরা কার্বন ক্রেডিটের মাধ্যমে আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন। এর ফলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তাদের জীবিকা নির্বাহে বড়সড় ভূমিকা পালন করছে।

নদীতে ডলফিন সংরক্ষণে সাফল্য

পরিবেশ সংরক্ষণে আরেকটি বড় পদক্ষেপ ছিল নদী ডলফিন সংরক্ষণ। বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের ২৮টি নদীতে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, মোট ২,৩৯৭টি নদী ডলফিন চিহ্নিত হয়েছে। ডলফিন সংরক্ষণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর কার্যকারিতা আজ সবার নজরে।

ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষউদ্যান এবং জটায়ু সংরক্ষণ কেন্দ্র

যোগী সরকারের সবুজায়ন কার্যক্রমের আরেকটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো ৯৪৮টি ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষউদ্যান স্থাপন। এছাড়া গোরক্ষপুরের ক্যাম্পিয়ারগঞ্জে এশিয়ার প্রথম ‘জটায়ু সংরক্ষণ ও প্রজনন কেন্দ্র’ স্থাপন করা হয়েছে। এখানে ছয়টি রাজা শকুনকে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যা প্রকৃতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ।

সারস পাখির সংখ্যা বৃদ্ধি

যোগী সরকারের নেতৃত্বে উত্তরপ্রদেশে পাখি সংরক্ষণেও বড়সড় সাফল্য এসেছে। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মকালীন আদমশুমারি অনুযায়ী, রাজ্য পাখি সারসের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯,৯৯৪টি। ধারাবাহিক এই বৃদ্ধি সরকারের সচেতন প্রচেষ্টারই ফল।

কর্মসংস্থান ও যোগাযোগে উন্নতি

সবুজ বিপ্লবের পাশাপাশি কর্মসংস্থানেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে উত্তরপ্রদেশ। বন, পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন দপ্তরে গত আট বছরে ২৫০০ জন যুবক নিয়োগ পেয়েছেন। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নয়নের জন্য লখনউ-পালিয়া বিমান পরিষেবা চালু হয়েছে, যা পর্যটন ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা এবং কর্মসংস্থান

যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে উত্তরপ্রদেশ আজ সুশাসন এবং সবুজায়নের অনন্য উদাহরণ। বৃক্ষরোপণ থেকে শুরু করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা এবং কর্মসংস্থান—সব ক্ষেত্রেই রাজ্যটি অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। এই সাফল্য শুধু রাজ্যের নয়, গোটা দেশের জন্য গর্বের।