Tuesday, February 10, 2026
Latestদেশ

Uttar Pradesh: বাংলাদেশ থেকে আগত বাস্তুচ্যুত ৯৯ হিন্দু পরিবারকে সরকারিভাবে জমি দিল যোগী সরকার

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। বাংলাদেশ থেকে আগত বাস্তুচ্যুত হিন্দুদের মধ্যে ৯৯টি পরিবারকে কানপুর দেহাতে জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পরিবারগুলি গত কয়েক দশক ধরে মীরাটে বসবাস করছিলেন, তবে স্থায়ী জমি ও আইনি স্বীকৃতির অভাবে তাঁদের জীবন ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়ে বহু বছর আগে ভারতে আশ্রয় নেন এই পরিবারগুলি। সীমিত সম্পদ নিয়ে উত্তরপ্রদেশে এসে তাঁরা দিনমজুরি, ছোটখাটো ব্যবসা ও পারস্পরিক সহায়তার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করলেও জমির মালিকানা বা স্থায়ী আবাসনের স্বীকৃতি পাননি।

দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী বসতিতে বসবাসের ফলে এই বাস্তুচ্যুত হিন্দু পরিবারগুলির দৈনন্দিন জীবন ছিল চরম অনিশ্চয়তায়। অস্থায়ী ঘর, সরকারি সুযোগ-সুবিধায় সীমিত প্রবেশাধিকার এবং উচ্ছেদের আশঙ্কা তাঁদের নিত্যসঙ্গী ছিল। প্রজন্মের পর প্রজন্ম বড় হয়েছে এই অনিশ্চিত বাস্তবতার মধ্যেই।

কানপুর দেহাতে জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি একটি আবেগঘন স্বীকৃতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সরকারি জমির আইনি মালিকানা পাওয়ার ফলে এই পরিবারগুলি এখন আবাসন প্রকল্প, বিদ্যুৎ, পানীয় জল, স্যানিটেশন এবং শিক্ষাসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা সহজে পেতে পারবেন। পাশাপাশি আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সুযোগও বাড়বে—ব্যাঙ্ক ঋণ, ক্ষুদ্র ব্যবসা কিংবা ঘর উন্নয়নের পথে আর বাধা থাকবে না।

এই সিদ্ধান্তের সামাজিক প্রভাবও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। স্থায়ী পুনর্বাসনের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক বসতির সংখ্যা কমবে, জনস্বাস্থ্যের উন্নতি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। স্থায়ী ঠিকানা পাওয়ায় শিশুদের নিয়মিত স্কুলে যাওয়া, নারীদের নিরাপদ বাসস্থান এবং পরিবারগুলির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা সহজ হবে।

স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। যোগ্য পরিবার চিহ্নিতকরণ, নথিপত্র যাচাই এবং জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত এই পরিবারগুলির কাছে সরকারি কাগজপত্রই যেন তাঁদের অস্তিত্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্বাস্তু ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল। সেই প্রেক্ষিতে পুনর্বাসন ও মর্যাদার প্রশ্নে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কানপুর দেহাতে নতুন জমিতে বাড়ি নির্মাণের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন পরিবারগুলি। বহু বছরের অস্থায়ী জীবনের অবসান ঘটিয়ে এবার তাঁদের সামনে স্থায়িত্বের নতুন অধ্যায়। এই জমি বরাদ্দ শুধু অতীতের ক্ষত মুছে দেবে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিচয় দেবে একটি স্থায়ী ঠিকানার। যেখানে তাঁরা আর বাস্তুচ্যুত নন, বরং নিজেদের মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা ভারতীয় নাগরিক।

উল্লেখ্য, এবারই প্রথম নয়। উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার এর আগেও উদ্বাস্তু হিন্দুদের জন্য জমি বরাদ্দ করেছে। TFIPOST