Monday, July 22, 2024
রাজ্য​

নন্দীগ্রাম সফরের পরেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের হুঁশিয়ারি রাজ্যপালের

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে তৃতীয় দফায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেতার পর থেকেই রাজ্যে হিংসা অব্যাহত। আর বিষয়টি নিয়ে প্রথম দিন থেকেই সরব হয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে অন্তত কুড়িজন রাজনৈতিক কর্মীর। এছাড়াও শীতলকুচি মৃত্যু নিয়ে ক্ষেপে আছেন রাজ্যপাল। শপথ নেওয়ার দিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বোন বলে সম্বোধন করে রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন করে দেন তিনি।

ভোট পরবর্তী হিংসা বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের সমালোচনা করেন তিনি। তাকে আক্রান্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন রাজ্যপাল। কোচবিহারের শীতলকুচি যাওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের  কাছে হেলিকপ্টার চান তিনি। কিন্তু সরকার তাতে রাজি হয়নি। এরপর বিএসএফের হেলিকপ্টারে শীতলকুচি যান তিনি। শীতলকুচিতে পরিস্থিতি দেখে মোটেই আশ্বস্ত হতে পারেননি রাজ্যপাল।

শীতলকুচির অবস্থা দেখে রাজ্যপাল সংবাদমাধ্যমর সামনে এবং টুইটারে মুখ খোলেন। তিনি বলেন, সামান্য একটি ভুলের কারণে মানুষ এত হিংসাত্মক হয়ে উঠতে পারে। শীতলকুচি পরিস্থিতি দেখে আমি খুবই দুঃখিত। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ করেন, নন্দীগ্রামে হামলার ঘটনা ঘটছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্যপাল নন্দীগ্রাম যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং শুভেন্দু অধিকারীর দেওয়া অভিযোগ খতিয়ে দেখেন। শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ খতিয়ে দেখেন। সেটি সত্য হওয়ায় তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর উপর আরও ক্ষুদ্ধ তিনি।

রাজ্যপাল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আপনি ঘুম থেকে উঠুন। আপনিতো শীতলকুচি শেষ করে দিয়েছেন। আপনি ঠান্ডা মাথায় গণহত্যা করছেন এবং পুলিশও আপনার দলদাসে পরিণত হয়েছে। সেই কারণে মানুষ এক রাজ্য ছেড়ে অন্য রাজ্যে বসবাস করতে চলে যাচ্ছে। আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না মানুষের কষ্ট? আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না যে মেয়েটির ধর্ষণ হয়েছে? আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না যাদের বাড়ির লোকের মৃত্যু হয়েছে? এইভাবে কি আপনি বাংলার উন্নতি করবেন?

সরাসরি বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ভারতের সংবিধানে একটা ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে। সেই ক্ষমতা ব্যবহার করতে বাধ্য করবেন না। ঘুম থেকে উঠুন। এই নৃশংস হিংসা বন্ধ করুন।