‘অযোগ্য’দের তালিকায় নাম তৃণমূল সভাপতির, তবুও মঙ্গলবার স্কুলে গেলেন
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি খোয়ানো ২৬ হাজার শিক্ষকের তালিকায় রয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা ব্লকের জলচক অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অজয় মাজিও। সবং ব্লকের মোহাড় ব্রহ্মময়ী হাইস্কুলের নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের শিক্ষক অজয়ের নাম ‘টেন্ডেড’ (প্রমাণিত অনিয়মে যুক্ত) তালিকায়ও রয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুসারে তাঁকে চাকরি হারানোর পাশাপাশি বেতন ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশ্বাসের পর অজয় মাজি জানিয়েছেন, তিনি মঙ্গলবার থেকেই স্কুলে যোগ দেবেন। তাঁর কথায়, “যা বলার মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন। আমি স্কুলে যাব। ছাত্রছাত্রীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।” উল্লেখযোগ্য ভাবে, অজয়ের স্কুলে মোট ছ’জন শিক্ষক এই রায়ের জেরে চাকরি হারিয়েছেন। অজয়ের দাবি, “আশা করছি, আজ সকলেই স্কুলে আসবেন।”
অন্যদিকে, চাকরি হারিয়েও সরকারি আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছেন না অনেকেই। অঙ্কে ‘স্বর্ণপদক’ প্রাপ্ত করামপুর ভদ্রকালী গান্ধী বিদ্যাপীঠের একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক অভিজিৎ গিরি, দেউলি কলসবাড় রামকৃষ্ণ বিদ্যাপীঠের রসায়নের শিক্ষক কৃষ্ণগোপাল চক্রবর্তী, চাঙ্গুয়াল হাইস্কুলের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক অর্জুন দাস প্রমুখ মঙ্গলবার স্কুলে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তাঁরা জানিয়েছেন, মেদিনীপুর শহরের কলেজ কলেজিয়েট মাঠ থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করছেন চাকরি হারানো শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা। তাঁদের বক্তব্য, “আইনি প্রক্রিয়া না মেনে আমরা স্কুলে যোগ দিতে পারি না। প্রশাসনের সদর্থক পদক্ষেপ না হলে আন্দোলন চলবে।”
প্রসঙ্গত, সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “আমি বেঁচে থাকতে কাউকে চাকরি হারাতে দেব না।” তবু এই মন্তব্য সকলের মধ্যে সমান আস্থা ফিরিয়ে আনেনি।
একদিকে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ শিক্ষক অজয়ের মতো কেউ কেউ মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে ভরসা রেখে স্কুলে ফিরছেন, অন্যদিকে অনেকেই আইনি অনিশ্চয়তা এবং নৈতিক দ্বিধায় পথে নামছেন প্রতিবাদে। রাজ্যের শিক্ষা ও রাজনৈতিক পরিসর এখন এই দ্বন্দ্বের জটিল ছায়ায় ঢাকা। ছবি কৃতজ্ঞতা: এই সময়


