Wednesday, July 24, 2024
সম্পাদকীয়

জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিতে রবীন্দ্র চর্চা

————————————————————————–

সৌভিক দত্ত

=========

ধর্মকারার প্রাচীরে বজ্র হানো,
এ অভাগা দেশে জ্ঞানের আলোক আনো।

রবীন্দ্রনাথের লেখা একটি কবিতার দুই লাইন। এবং বর্তমানে স্বঘোষিত সেকুলার বলে দাবি করা একটি গোষ্ঠীর দ্বারা বহুল ব্যবহৃত লাইন। আর স্বাভাবিকভাবেই‚ বর্তমানে হিন্দুদের দিকে তথাকথিত অসহিষ্ণুতার অভিযোগ থাকায় ( উক্ত স্বঘোষিত গোষ্ঠীরই দেওয়া) এই ন্যারেটিভের মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে হিন্দুরাই। সে আপনি তাদের এই লাইন সংক্রান্ত কথাবার্তা গুলো পড়লেই বুঝবেন। আর তাছাড়া যারা মনুবাদ সে আজাদী‚ সংঘবাদ সে আজাদী বলতে পারে‚ কিন্তু ভুল করেও শরিয়ত সে আজাদী যাদের মুখ থেকে বেরোয়না‚ তাদের ধর্মনিরপেক্ষতা যে কি ধরনের বা তাদের আক্রমনের মূল লক্ষ্য যে কারা তা সহজেই অনুমেয়।

যাইহোক‚ এই লাইনটা লেখার সময় কারও কোনো খটকা লাগেনি? যে রবীন্দ্রনাথ এমন লিখলেন? রবীন্দ্রনাথ? যে রবীন্দ্রনাথ আলাউদ্দিন খিলজি দ্বারা চিতোর আক্রমণ ও পদ্মিনীর জহরব্রতকে নিয়ে লিখতে পারেন‚

জ্বল্‌ জ্বল্‌ চিতা, দ্বিগুণ দ্বিগুণ—
পরান সঁপিবে বিধবা বালা ।
জ্বলুক জ্বলুক চিতার আগুন,
জুড়াবে এখনি প্রাণের জ্বালা ।।
.
.
.
স্পর্ধিত যবন, তোরাও দেখ্‌ রে,
সতীত্ব-রতন করিতে রক্ষণ
রাজপুত-সতী আজিকে কেমন
সঁপিছে পরান অনলশিখে ।।

কিংবা ধরুন রবীন্দ্রনাথের করা দেশমাতৃকার এই বর্ণনা টা?

ডান হাতে তোর খড়্গ জ্বলে‚
বাঁ হাত করে শঙ্কা হরণ।
দুই নয়নে স্নেহের হাসি‚
ললাট নেত্র আগুনবরণ।
ওগো মা………

বলুনতো কারো সাথে মিল পাচ্ছেন কি? পাচ্ছেন না? কেন? বাঙালি জাতির মেইনক্যাম্ফ বলে পরিচিত “আনন্দমঠ” এর সেই ভারত কাঁপিয়ে দেওয়া দেশবন্দনাটা ভুলে গেলেন ?

ত্বং হি দুর্গা দশপ্রহরণধারিণী
কমলা কমল-দলবিহারিণী
বাণী বিদ্যাদায়িণী
নমামি ত্বাং
নমামি কমলাম্
অমলাং অতুলাম্
সুজলাং সুফলাং
মাতরম্

কি বুঝলেন? ত্বং হি দুর্গা দশপ্রহরণধারিণী বলছেন বঙ্কিম আর রবীন্দ্রনাথ বলছেন ডান হাতে তোর খড়্গ জ্বলে/বাঁ হাত করে শঙ্কা হরণ। মা দুর্গা আর মা কালী! দেশমাতৃকার দুই মহান সন্তানের দৃষ্টিতে মায়ের দুই শক্তিদায়িনী রূপকল্প।

কিংবা ধরুন ১৬ই অক্টোবর‚১৯৩৩ এ হেমন্তবালা দেবীকে রবীন্দ্রনাথ লিখছেন –

“দেশের অসীম দুর্গতির কথায় মন যখন উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে তখন চুপ করে থাকতে পারিনে। ধর্মে ও নিরর্থক আচারে হিন্দুকে শতধা বিভক্ত করে রেখেছে। বিদেশির হাতে তাই পরাভবের পর পরাভব ভোগ করে আসছি। অন্তঃশত্রু এবং বহিঃশত্রুদের হাতে মার খেয়ে খেয়ে আমাদের হাড় জীর্ণ। মুসলমান ধর্মে এক, আচারে এক, বাংলার মুসলমান, মাদ্রাজের মুসলমান এবং ভারতবর্ষের বাইরের মুসলমান, সমাজে সবাই এক, বিপদে-আপদে সবাই এক হয়ে দাঁড়াতে পারে, এদের সঙ্গে ভাঙাচোরা হিন্দুজাত পারবে না। আরও একবার পাঠানদের হাতে কানমলা খাওয়ার দিন ঘনিয়ে আসছে।
তুমি তো সন্তানের জননী, হিন্দু সমাজের ভবিষ্যৎ তোমার ছেলেমেয়েদের দুর্বল স্কন্ধে চাপিয়ে একদিন তুমি চলে যাবে। কিন্তু তার কি ভবিষ্যৎ ভেবে দেখো।”

(বাংলা সাপ্তাহিক স্বস্তিকার ২১-৬-১৯৯৯ সংখ্যায় উদ্ধৃত।)

.

এবার চলুন দেখে নেওয়া যাক তার এই কথাগুলো?

১/”যে মুসলমানকে আজ ওরা প্রশ্রয় দিচ্ছে সেই মুসলমানেরাই একদিন মুষল ধরবে। “(অমিয় চক্রবর্ত্তীকে লেখা চিঠি, ১৫.১১.১৯৩৪, চিঠিপত্র :১১)

২/ “চল্লিশলাখ হিন্দু একলাখ মুসলিমদের ভয়ে মারাত্মকভাবে অভিভূত। ” ( আনন্দবাজার পত্রিকায় সাক্ষাৎকার, ৫.৯.১৯২৩)

৩/”যদি মুসলমান সমাজ মারে আর আমরা পড়ে পড়ে মার খাই, তবে জানব, এ সম্ভব করেছে শুধু আমাদের দুর্বলতা।”(রবীন্দ্র রচনাবলী, জ.শ.স,১৩ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩১৭,কালান্তর)

৪/ “কোনো বিশেষ প্রয়োজন না থাকলেও হিন্দু নিজেকেই মারে, আর প্রয়োজন থাকলেও হিন্দু অন্যকে মারতে পারে না। আর মুসলমান কোনো বিশেষ প্রয়োজন না ঘটলেও নিজেকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করে, আর প্রয়োজন হলে অন্যকে বেদম মার দিতে পারে।”(রবীন্দ্র রচনাবলী, জ.শ.স, ১৩ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩১৭,কালান্তর)

৫/ “এই ধর্ম যেখানে গেছে সেখানেই অাপনার বিরুদ্ধ ধর্মকে আঘাত করে ভূমিস্যাৎ করে তবে ক্ষান্ত হয়েছে। ভারতবর্ষের উপরেও এই প্রচণ্ড আঘাত এসে পড়েছিল এবং বহু শতাব্দী ধরে এই আঘাত নিরন্তর কাজ করেছে।”(রবীন্দ্র রচনাবলী, জ.শ.স, ১২ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪০৮,শান্তিনিকেতন)

৬/”ইতিহাসে দেখা যায়, নিরুৎসুক হিন্দুগণ মরিতে কুণ্ঠিত হয় নাই। মুসলমানেরা যুদ্ধ করিয়াছে, আর হিন্দুরা দলে দলে আত্মহত্যা করিয়াছে।”(ঐ, পৃষ্ঠা ৪৮৫,ইতিহাস)

৭/”প্রতিদিন নিম্নশ্রেণীর হিন্দুরা মুসলমান এবং খৃস্টান হতে চলেছে। কিন্তু ভাটপাড়ার চৈতন্য নেই। একদা ঐ তর্করত্নদের প্রপৌত্রীমণ্ডলীকে মুসলমান যখন জোর করে কলেমা পড়াবে তখন পরিতাপ করার সময় থাকবে না।”(হেমন্তীবালা দেবীকে লেখা চিঠি, ১৬.১০.১৯৩৩,চিঠিপত্র-৯)

এতদিন সিলেক্টিভ ভাবে তুলে আনা বাম ন্যারেটিভে তৈরী রবীন্দ্রনাথ দর্শনের সাথে আর কোনো মিল পাচ্ছেন কি? দাড়ান দাড়ান। এত তাড়াহুড়ো কিসের? আরো অনেক ধাক্কা বাকি আছে এখনো!

এবার চলুন‚ মুঘল সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর স্বাধীনতা যোদ্ধা ছত্রপতি শিবাজি মহারাজাকে নিয়ে রবীন্দ্রনাথ কি লিখেছেন দেখে নি একটু।

কোন্‌ দূর শতাব্দের কোন্‌-এক অখ্যাত দিবসে
নাহি জানি আজি
মারাঠার কোন্‌ শৈলে অরণ্যের অন্ধকারে ব ‘ সে,
হে রাজা শিবাজি,
তব ভাল উদ্ভাসিয়া এ ভাবনা তড়িৎপ্রভাবৎ
এসেছিল নামি —
‘একধর্মরাজ্যপাশে খণ্ড ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ভারত
বেঁধে দিব আমি। ‘
.
.
.
.
মারাঠির সাথে আজি, হে বাঙালি, এক কন্ঠে বলো
‘ জয়তু শিবাজি ‘।
মারাঠির সাথে আজি, হে বাঙালি, এক সঙ্গে চলো
মহোৎসবে সাজি।
আজি এক সভাতলে ভারতের পশ্চিম-পূরব
দক্ষিণে ও বামে
একত্রে করুক ভোগ একসাথে একটি গৌরব
এক পুণ্য নামে।

“ধর্মরাজ্যপাশে খণ্ড ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ভারতকে বেঁধে” দেওয়ার প্রচেষ্টার বন্দনা যিনি করেছেন‚ তিনিই তার স্বজাতির রবীন্দ্র চর্চার অনীহা আর ইতিহাস বিমুখতার ফলে হয়ে গেলেন টুকরে গ্যাং এর দেশ বিরোধী প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর অস্ত্র! ইতিহাসের কি অদ্ভুত রসিকতা! তাইনা?

কিংবা রবীন্দ্রনাথের আরেকটি মজার লেখাংশ পড়বেন?

“বাংলাদেশের মাটিতে সেই রামায়ণ কথা হরগৌরী ও রাধাকৃষ্ণের কথার উপরে যে মাথা তুলিয়া উঠিতে পারে না তাহা আমাদের দেশের দুর্ভাগ্য। রামকে যাহারা যুদ্ধক্ষেত্র ও কর্মক্ষেত্রে নরদেবতার আদর্শ বলিয়া গ্রহণ করিয়াছে, তাহাদের পৌরুষ , কর্তব্যনিষ্ঠা ও ধর্মপরতার আদর্শ আমাদের অপেক্ষা উচ্চতর।”- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (লোকসাহিত্য, পৃষ্ঠা ১২০)

সত্যি করে বলুন তো যদি না বলে দেওয়া হতো যে এটা রবীন্দ্রনাথের লেখা‚ তবে এই লেখাটাকেই আপনি ( সেকুলার হলে ) বাংলার সংস্কৃতির উপর গুজ্জু মাওড়া দালাল চাড্ডিদের আক্রমণ বলে চিল্লাচিল্লি করে উঠতেন কিনা? মিথ্যে বলবেন না‚ সত্যি করে বলুন।

হিন্দুদের উপর আক্রমন প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন :

” ডাক্তার মঞ্জুর রিপোর্টের আর একটা অংশ তিনি বলেছেন, আটশো বৎসর আগে মালাবারের হিন্দু রাজা ব্রক্ষ্মন মন্ত্রীদের পরামর্শে তাঁর রাজ্যে আরবদের বাসস্থানের বিশেষভাবে সুবিধা করে দিয়েছিলেন যে। এমনকি হিন্দুদের মুসলমান করবার কাজে তিনি আরবদের এতদূর প্রশ্রয় দিয়েছিলেন যে, তাঁরা আইনমতে প্রত্যেক জেলে পরিবার থেকে একজন হিন্দুকে মুসলমান হতেই হত।…. বুদ্ধিকে না মেনে অবুদ্ধিকে মানাই যাদের ধর্ম, রাজাসনে বসেও তারা স্বাধীন হয় না। তারা কর্মের মধ্যাহ্নকালকেও মুক্তির নিশীথরাত্রি বানিয়ে তোলে। এইজন্যেই তাদের

ঠিক দুপ্পুর বেলা
ভূতে মারে ঢেলা।

মালাবারের রাজা একদা নিজে রাজার মুখোশ- মাত্র পরে অবুদ্ধিকে রাজাসন ছেড়ে দিয়েছিলেন। সেই অবুদ্ধি মালাবারের হিন্দু সিংহাসনে এখনও রাজা আছে। তাই হিন্দু এখনও মার খায় আর উপরের দিকে তাকিয়ে বলে, ভগবান আছেন। সমস্ত ভারতবর্ষ জুড়ে আমরা অবুদ্ধিকে রাজা করে দিয়ে আমার তার কাছে হাত জোড় করে আছি। সেই অবুদ্ধির রাজত্বকে – সেই বিধাতার বিধিবদ্ধ ভয়ংকর ফাঁকটাকে কখনও পাঠান, কখনও মোগল, কখনও ইংরেজ এসে পূর্ণ করে বসেছে। বাইরে থেকে এদের মারটাকেই দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু এরা হল উপলক্ষ। এরা একা – একটা ঢেলা মাত্র, এরা ভূত নয়। আমরা মধ্যেহ্নকালের আলোতেও বুদ্ধির চোখ বুজিয়ে দিয়ে অবুদ্ধির ভূতকে ডেকে এনেছি, সমস্ত তাই কর্ম। তাই ঠিক দুপ্পুর বেলায় যখন জাগ্রত বিশ্বসংসার চিন্তা করছে, কাজ করছে, তখন পিছনদিক থেকে কেবল আমাদেরই পিঠের উপর –

ঠিক দুপ্পুর বেলা
ভূতে মারে ঢেলা।”

(অগ্রহায়ণ ১৩৩০, বঙ্গাব্দে রবীন্দ্রনাথ লিখিত সমস্যা প্রবন্ধের অংশ; কালান্তর গ্রন্থে সন্নিবেশিত)

এমনই আরও একটি ইন্টারেস্টিং জিনিস দেখুন –

“একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যকে বস্তুতঃ অসম্ভব করে রেখেছে – তা হল মুসলমানেরা কখনও কোনো একটা দেশের আনুগত্য স্বীকার করে না। মুসলমানদের আমি সরাসরি জিজ্ঞাসা করেছি কোনো মুসলিম রাষ্ট্র ভারত আক্রমণ করলে ভারতের মুসলমানরা ভারতের হিন্দুদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিদেশি মুসলমানদের সাথে লড়বে কিনা। তাদের উত্তরে আমি সন্তুষ্ট হতে পারিনি। এমনকি মহন্মদ আলির (খিলাফত আন্দোলনের নেতা, আলি ভাতৃদ্বয়ের একজন) মতো মানুষও ঘোষণা করেছেন যে কোনো অবস্থাতেই, কোনো দেশের মুসলমানরাই কখনও মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়তে পারে না – এটা মুসলমানদের পক্ষে নিষিদ্ধ।”

(টাইমস অফ ইন্ডিয়া সংবাদপত্রে রবীন্দ্রনাথের বিবৃতিঃ ১৮-৪-১৯২৪)

কিংবা ধরা যাক ব্রাহ্মধর্মের কথা। একসময়কার আর্যসমাজ বা চৈতন্যের বৈষ্ণব আন্দোলনের মতোই যে ব্রাহ্মসমাজ একদিন তৈরী হয়েছিল “বাদামী চামড়ার ব্রিটিশ” দের খ্রীস্টান ধর্মে ধর্মান্তকরণ রোধে! ( আর শিক্ষিত কিন্তু অন্ধ ব্রিটিশ ভক্ত নয় এমন বাঙ্গালীদের ধর্মান্তকরণ আটকাতে হাল ধরেছিলেন রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ ) সেই ব্রাহ্ম আন্দোলনকেই কি সুচতুরভাবে বাম ও নেহেরুভিয়ান ঐতিহাসিকরা চালিয়ে দিলো হিন্দু বিরোধী কালাপাহাড়ি আন্দোলন রূপে। মনে করে দেখুনতো স্কুলে পাঠ্যবইতে ব্রাহ্মধর্ম অংশটুকু যেভাবে পড়ানো হতো তাতে তাদের ডিরোজিওর ইয়ং বেঙ্গলেরই কিছুটা সভ্যভদ্র ভার্সন ছাড়া আর কিছু মনে হতো কিনা? কিন্তু আসলেই কি তাই? ব্রাহ্মদের ধর্মগ্রন্থ ছিলো উপনিষদ! ব্রাহ্মদের উপাস্য ছিলো উপনিষদের নিরাকার ব্রহ্ম। আর তারাই কিনা হিন্দু বিরোধী বলে চিহ্নিত হয়ে রইলো ইতিহাসে।

তা এই ব্রাহ্মধর্ম রূপে রবীন্দ্রনাথের মতামত কি ছিলো?

” বস্তুত ব্রাহ্মসমাজের আবির্ভাব সমস্ত হিন্দুসমাজেরই ইতিহাসের একটি অঙ্গ। … ব্রাহ্মসমাজকে তাই আমি হিন্দুসমাজের ইতিহাসেরই একটি স্বাভাবিক বিকাশ বলিয়া দেখি। … অতএব হিন্দুসমাজের দশজন যদি আমাকে হিন্দু না বলে এবং সেই সঙ্গে আমিও যদি আমাকে হিন্দু না বলি তবে সে বলামাত্রের দ্বারা তাহা কখনোই সত্য হইবে না। সুতরাং ইহাতে আমাদের কোনো পক্ষেরই কোনো ইষ্ট নাই। আমরা যে ধর্মকে গ্রহণ করিয়াছি তাহা বিশ্বজনীন তথাপি তাহা হিন্দুরই ধর্ম। এই বিশ্বধর্মকে আমরা হিন্দুর চিত্ত দিয়াই চিন্তা করিয়াছি, হিন্দুর চিত্ত দিয়াই গ্রহণ করিয়াছি।”

(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আত্মপরিচয়)

কি? চিনতে অসুবিধা হচ্ছে তো এতদিন ধরে চিনিয়ে আসা রবীন্দ্রনাথকে?

আরো একটা মজার তথ্য দি? রবীন্দ্রনাথের জমিদারিতে জেহাদী তান্ডব বৃদ্ধি পেলে তিনি সেখানে বাংলার আদি মার্শাল কাস্ট নমঃশূদ্র দের এনে বসান জেহাদ প্রতিরোধের জন্য।

সরকার শাহাবুদ্দীন আহমদ তার “ইতিহাসের নিরিখে রবীন্দ্র- নজরুল চরিত” বইয়ের পৃষ্ঠা ২৬৯-২৮৪ তে এই নিয়ে স্বভাবসুলভ ভঙ্গীতে লিখেছেন‚
“মুসলমান প্রজাদের চিট করার জন্য নমঃশূদ্র প্রজা এনে বসতি স্থাপনের সাম্প্রদায়িক বুদ্ধি রবীন্দ্রনাথের মাথা থেকেই বের হয়েছিল।”

এবার রবীন্দ্রনাথের আরও দুটো লেখাংশ তুলে দিই?

১/ ”কিছুদিন হইল একদল ইতরশ্রেণীর অবিবেচক মুসলমান কলিকাতার রাজপথে লোষ্ট্রখণ্ডহস্তে উপদ্রবের চেষ্টা করিয়াছিল। তাহার মধ্যে বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে, উপদ্রবের লক্ষটা বিশেষরূপে ইংরাজেরই প্রতি। তাহাদের শাস্তিও যথেষ্ট হইয়াছিল। প্রবাদ আছে, ইঁটটি মারিলেই পাটকেলটি খাইতে হয়; কিন্তু মূঢ়গণ ইঁটটি মারিয়া। পাটকেলের অপেক্ষা অনেক শক্ত শক্ত জিনিস খাইয়াছিল।“ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কণ্ঠরোধ)

২/ ” ‘আল্লা হো আকবর’ শব্দে রণভূমি প্রতিধ্বনিত হইয়া উঠিয়াছে। একদিকে তিনলক্ষ যবনসেনা, অন্যদিকে তিনসহস্র আর্যসৈন্য। বন্যার মধ্যে একাকী অশ্বত্থবৃক্ষের মতো হিন্দুবীরগণ সমস্ত রাত্রি এবং সমস্ত দিন যুদ্ধ করিয়া অটল দাঁড়াইয়া ছিল কিন্তু এইবার ভাঙিয়া পড়িবে, তাহার লক্ষণ দেখা যাইতেছে। এবং সেইসঙ্গে ভারতের জয়ধ্বজা ভূমিসাৎ হইবে এবং আজিকার ঐ অস্তাচলবর্তী সহস্ররশ্মির সহিত হিন্দুস্থানের গৌরবসূর্য চিরদিনের মতো অস্তমিত হইবে।

হর হর বোম্‌ বোম্‌! পাঠক বলিতে পার, কে ঐ দৃপ্ত যুবা পঁয়ত্রিশজন মাত্র অনুচর লইয়া মুক্ত অসি হস্তে অশ্বারোহণে ভারতের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর করনিক্ষিপ্ত দীপ্ত বজ্রের ন্যায় শত্রুসৈন্যের উপরে আসিয়া পতিত হইল? বলিতে পার, কাহার প্রতাপে এই অগণিত যবনসৈন্য প্রচণ্ড বাত্যাহত অরণ্যানীর ন্যায় বিক্ষুব্ধ হইয়া উঠিল?— কাহার বজ্রমন্দ্রিত ‘হর হর বোম্‌ বোম্‌’ শব্দে তিনলক্ষ ম্লেচ্ছকণ্ঠের ‘আল্লা হো আকবর’ ধ্বনি নিমগ্ন হইয়া গেল? কাহার উদ্যত অসির সম্মুখে ব্যাঘ্র-আক্রান্ত মেষযূথের ন্যায় শত্রুসৈন্য মুহূর্তের মধ্যে ঊর্ধ্বশ্বাসে পলায়নপর হইল? বলিতে পার, সেদিনকার আর্যস্থানের সূর্যদেব সহস্র রক্তকরস্পর্শে কাহার রক্তাক্ত তরবারিকে আশীর্বাদ করিয়া অস্তাচলে বিশ্রাম করিতে গেলেন? বলিতে পার কি পাঠক। ইনিই সেই ললিতসিংহ। কাঞ্চীর সেনাপতি। ভারত-ইতিহাসের ধ্রুবনক্ষত্র।”

(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রীতিমত নভেল)

কেয়া ? হিলা ডালা না?
.

যাগকে‚ রবীন্দ্রচর্চা অনেক হলো। ভবিষ্যতেও হবে। শুধু রবীন্দ্রনাথ না‚ যদি দুটো বছরও ঠিকঠাকমতো কাজে লাগতে পারি‚ বাংলার সমস্ত মহাপুরুষদের গায়ে চাপিয়ে দেওয়া সেকুলারি কৃত্রিম লেবাস খুলিয়েই ছাড়বো। প্রতিজ্ঞা রইলো।

আসলে এই রবীন্দ্রনাথ‚ অরবিন্দ সহ যাবতীয় মহাপুরুষদের সেকুলার বানানোর কুকর্মটা প্রধানত করে গেছে স্বাধীনতা পরবর্তী তথাকথিত কবি লেখকের দল। একে তো তৎকালীন রাজনৈতিক আনুকূল্য ছিলোই এই ব্যাপারে‚ প্রথমে কংগ্রেস আর তারপরে সিপিএম! কিন্তু আরও একটা কারণ ছিলো। পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশ !

হ্যাঁ‚ দেশভাগের ফলে সবথেকে বেশী উপকৃত কারা হয়েছিল জানেন তো? এই পশ্চিমবঙ্গীয় লেখকরাই। মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশে তাদের ডাক পড়তো কবি-লেখক সন্মেলনে। যতই হোক ওপার বাংলা‚ কলকাতা থেকে ঢাকা যেতে মাত্র আধ ঘন্টার বিমান পথ‚ বিদেশ তো। আর বিদেশে যেতে পারলেই আন্তর্জাতিক লেখক সম্মান! তাই এই আন্তর্জাতিক লেখক- কবি হওয়ার লোভেই ওপার বাংলার সংখ্যাগুরুদের তেল মাখাতে শুরু করলো পশ্চিমবঙ্গের বেশিরভাগ কবি লেখক। হিন্দু সাম্প্রদায়িক বলে স্ট্যাম্প পড়ে গেলে যদি আর আমন্ত্রণ না আসে? আর সেই তেল মাখাতে মাখাতে‚ অর্থাৎ নিজেদের সেকুলার বানাতে বানাতে আর যখন নিজেদের মুখোশ পড়ানোর কিছু বাকি থাকলো না‚ মুখোশটাই তাদের পাকাপাকি ভাবে মুখে পরিণত হলো‚ তখন গিয়ে হাত বাড়ালো রবীন্দ্রনাথ-বিদ্যাসাগর-রামমোহন-অগ্নিযুগের বিপ্লবীগণ সহ যাবতীয় মনীষীদের দিকে।

যারই সর্বশেষ পরিণাম আমাদের সেকুলারি সংস্কৃতি! জঙ্গীবাদের বিরোধিতা করতে গেলেই সিলেক্টিভলি রবীন্দ্রনাথ আউড়ে ” প্রতিবাদ করা কি আমাদের সংস্কৃতি গোওও”? বলে সেকুলারি রুদালী গাওয়া।

তো ফিরে আসি মূল বিষয়ে। ধর্মের বেশে মোহ ……………… তাইতো?

আচ্ছা আপনারা এটা কি জানেন? যে কবিতাটা কবে লেখা হয়েছিল? কবিতা টার প্রেক্ষাপট কি? প্রত্যেকটি ঘটনা ঘটার তো একটা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থাকে। নির্দিষ্ট সময় লাগে। এই কবিতাটার ক্ষেত্রে কি ছিলো?

আসছি সেই প্রসঙ্গে‚ তবে তার আগে বরং একটু দেখে নি কবিতাটা কবে লেখা হয়েছিল? ১৯২৬ সালের ১৪ ই মে।

আর সেই সময় কি চলছে? না‚ দুই বাংলা জুড়ে হিন্দুদের উপর ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক অত্যাচার! পূর্ব বাংলায় পটুয়াখালীতে অলরেডি সরস্বতী পুজো নিয়ে ধুন্ধুমার হয়ে গেছে।

এইসময়ে বরিশাল কলেজে সরস্বতী পুজোতে বাধাদান করা হয়, পুজো না করার নির্দেশ আসে স্থানীয় সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের ছাত্রদের থেকে। বহু চেষ্টার পরও নিজেদের এত বছরের প্রতিবেশীদের মন গলাতে না পেরে কলেজের মধ্যে পুজো না করে হিন্দু ছাত্ররা তাদের হোস্টেলের মধ্যে পুজো সম্পন্ন করেন। ……… এদিকে শান্তিভঙ্গ হয়েছে এই অপরাধে সমস্ত হিন্দু ছাত্রদের পুলিস গ্রেপ্তার করে, ততক্ষণে অবশ্য পুজো সম্পন্ন হয়ে গেছিল (সূত্র- তমাল দাশগুপ্ত‚ সপ্তডিঙা)।

আবার একইসময় পটুয়াখালীর মিউনিসিপ্যাল উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে একই কায়দায় সরস্বতী পুজোয় বাধা দেওয়া হয়। তেনাদের আপত্তির কারণে স্কুল গৃহে না করে, পুজো সম্পন্ন করা হয় স্কুল প্রাঙ্গনে। পরের দিন সরস্বতী মূর্তির সামনে একটি গরুর কাটা মাথা পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এর পরেই সরস্বতী পুজোয় বিসর্জনের শোভাযাত্রা বন্ধের দাবী করা হয়। কারণ শোভাযাত্রা যে পথ দিয়ে যাবে, সেই পথে একটি মসজিদ ছিল ( ঠিক সেই রাজপথের ওপরে নয়, রাজপথ থেকে বেরোনো একটি সঙ্কীর্ণ গলিপথের শেষ প্রান্তে ছিল এই মসজিদ)। মসজিদের প্রার্থনার সময় তার সামনে দিয়ে যাওয়া কোনও শোভাযাত্রায় কোনও বাজনা বাজানো হবে না, এই আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও সরস্বতীর বিসর্জনযাত্রার অনুমতি দেওয়া হল না।
একইভাবে ১৯২৬ সালে অগাস্ট মাসে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রাতেও হামলা চালানো হয়‚ পুলিস এসে শোভাযাত্রা আটকে দেয়, এবং শুধু হিন্দুদেরকেই শান্তিভঙ্গের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে।

এর প্রতিবাদে সেখানে শুরু হয় পটুয়াখালী সত্যাগ্রহ। ( সূত্র-ঐ একই)

আর পশ্চিমবঙ্গে ? তিন খেপে মোট এগারোটি দাঙ্গা হয়েছিল গোটা ‘২৬ সাল জুড়ে। প্রথম দফাটা ২ থেকে ১৪ই এপ্রিল‚ দ্বিতীয় দফাটা ২২ শে এপ্রিল থেকে ৮ই মে আর তৃতীয় দফাটা ১১-২৫ শে জুলাই পর্যন্ত। প্রথম দাঙ্গার কারণ ছিলো মসজিদের সামনে গান বাজানো যাবেনা বলে ফতোয়া‚ দ্বিতীয় দাঙ্গার কারণ ছিলো মেছুবাজার‚ কটন স্ট্রিটে হিন্দুদের উপর আক্রমণ আর তৃতীয় দাঙ্গা হয়েছিল মসজিদের সামনে হিন্দুদের শোভাযাত্রায় বাঁধা দেওয়া।

[Source- File-Home (Confidential) 174/26, WBSA; Report on the Calcutta Riot: of April 1926, Second Phase 22nd April to 8th May 1926 (Cal 1926); Report on the Calcutta Riot: of July 1926, 11th to 25th July (Cal 1926)]

মতওয়ালা সুলতান, হানাফি, জামায়াত, মহাম্মদী (উর্দু), আসর-ই জাদিদ (আরবী), ইসলাম জগত (বাংলা) প্রভৃতি সংবাদপত্র গুলো ক্রমাগত উস্কানিমূলক লেখা লিখে দাঙ্গায় মদত দিতে থাকে। নিয়মিত আক্রমণে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে কলকাতার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

প্রসঙ্গত‚ এই দাঙ্গাতেই ঠনঠনিয়া (ঠনঠনে) কালীবাড়ি মন্দিরের উপর আক্রমনের চেষ্টা করা হয় বস্তুত ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মতোই কলকাতার কলকাতার ঠনঠনিয়া (ঠনঠনে) কালীবাড়ি ছিলো প্রত্যেকটি দাঙ্গায় একটি সহজ টাগেট। তা এই আক্রমন যারা প্রতিরোধ করেছিল, সেই যুব সমাজের উদ্দেশ্যে একটি কবিতা লিখেছিলেন রসরাজ অমৃত লাল বসু – “বাজিল দীপক রাগ যুবক জীবনে”॥
আবার ১৯৪৬ এর দাঙ্গার পর সেই কবিতাটিকে আবার ছাপানো হয় “পরাগ “নামে একটি পত্রিকাতে। উদ্দেশ্য ছিলো যুবকদের অতীতের গরিমার কথা মনে করিয়ে দিয়ে জেহাদ প্রতিরোধে উজ্জীবিত করা।

যাইহোক‚ এই ভয়ানক পরিস্থিতিতে‚ যখন এপার বাংলা- ওপারে বাংলা দুই জায়গাতেই ( যদিও তখন একই ছিলো ) হিন্দুদের উপর ক্রমাগত আক্রমণ হচ্ছে‚ সরস্বতী পুজো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে‚ ঠনঠনিয়া আক্রান্ত হচ্ছে‚ ধর্মীয় শোভাযাত্রার উপর আঘাত আসছে‚ হিন্দু ছাত্রদের পুলিশ উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে – সেই সময় চিরকাল হিন্দুদের মঙ্গল চেয়ে আসা ( উপরে দেওয়া তথ্যসূত্র সহ রবীন্দ্রনাথের কোটেশন গুলো আরেকবার পড়ুন ) কবিগুরু “ধর্মের বেশে মোহ যারে এসে ধরে” ঠিক কোন সম্প্রদায়কে ইঙ্গিত করে লিখেছিলেন‚ তা বুঝতে অসুবিধা হয় কি?

কিন্তু আজ তার সেই কবিতাই ব্যবহৃত হচ্ছে তার নিজেরই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসাবে। কেন? ওইযে বললাম আমাদের ইতিহাসের বিমুখতা ও যথাযথ রবীন্দ্রচর্চার অভাব!

পুনঃ সেই বছরেরই শেষের দিকে (২৩ শে ডিসেম্বর ) আবদুল রশিদ হত্যা করে স্বামী শ্রদ্ধানন্দকে। এই মহামানবের মৃত্যুতে ব্যথিত রবীন্দ্রনাথ লেখেন –

“বাহির থেকে যখন প্রথম আঘাত নিয়ে এল মহম্মদ ঘোরী, তখন হিন্দুরা সে আসন্ন বিপদের দিনেতেও তো একত্র হয় নি। তার পর যখন মন্দিরের পর মন্দির ভাঙতে লাগল, দেবমূর্তি চূর্ণ হতে লাগল, তখন তারা লড়েছে, মরেছে, খণ্ড খণ্ড ভাবে যুদ্ধ করে মরেছে। তখনও একত্র হতে পারল না। খণ্ডিত ছিলেম বলেই মেরেছে, যুগে যুগে এই প্রমাণ আমরা দিয়েছি।

পাপের প্রধান আশ্রয় দুর্বলের মধ্যে। অতএব মুসলমান মারে আর আমার পড়ে পড়ে মার খাই – তবে জানব, এ সম্ভব করেছে শুধু আমাদের দুর্বলতা। আপনার জন্যেও, প্রতিবেশীর জন্যেও আমাদের নিজেদের দুর্বলতা দূর করতে হবে। আমরা প্রতিবেশীদের (মুসলমানদের) কাছে আপিল করতে পারি,, তোমরা ক্রূর হয়ো না, তোমরা ভালো হও, নরহত্যার উপরে কোনো ধর্মের ভিত্তি হতে পারে না। – কিন্তু সে আপিল দুর্বলের কান্না। বায়ুমন্ডলের লঘু হয়ে এলে ঝড় যেমন আপনিই আসে, ধর্মের দোহাই দিয়ে কেউ তাকে বাধা দিতে পারে না, তেমনি দুর্বলতা পুষে রেখে দিলে সেখানে অত্যাচার আপনিই আসে – কেউ বাধা দিতে পারে না। কিছুক্ষণের জন্য হয়ত একটা উপলক্ষ নিয়ে পরস্পর (হিন্দু – মুসলমান) কৃত্রিম বন্ধুতা বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারি, কিন্তু চিরকালের জন্য তা হয় না। যেমন মাটিতে কন্ডকতরু ওঠে সে মাটির যতখোন শোধন না করা হয় ততখন তো কোন ফল হবে না। ”

(মাঘ ১৩৩৩ সালে রবীন্দ্রনাথ লিখিত স্বামী শ্রদ্ধানন্দ প্রবন্ধের অংশ যা কালান্তর গ্রন্থে স্থান পেয়েছে।)

তো এই গেলো মোটের উপর রবীন্দ্রনাথের আখ্যান। কবিগুরুর উপর কৃত্রিম সেকুলারি লেবাস সরানোর অতি সামান্যতম একটি প্রচেষ্টা! এবার সিদ্ধান্ত আপনাদের‚ আপনারা বামপন্থীদের শিখিয়ে দেওয়া বুলিতে রবীন্দ্রনাথকে পড়বেন না নাকি রবীন্দ্রনাথের নিজের দৃষ্টির অনুসরণে নিজের উপলব্ধিতে রবীন্দ্রনাথকে জানবেন?

কবি কি বলে গেছেন? শোনেননি ?
“সংশয় পারাবার অন্তরে হবে পার / উদ্বেগে তাকায়ো না বাইরে ” 🙂

(লেখক- সৌভিক দত্ত। মতামত লেখকের নিজস্ব, Cover Photo- অর্ণব দাস)