Friday, January 23, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

‘মোদীর থেকে শেখা উচিত নেতানিয়াহুর’, মন্তব্য ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা নীতি বিশেষজ্ঞের

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ইসরায়েল উচিত ভারতের কাছ থেকে ‘জাতীয় সম্মান’কে কৌশলগত শক্তি হিসেবে গ্রহণ করা। এই পরামর্শ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা নীতি বিশেষজ্ঞ জাকি শালোম। দ্য জেরুজালেম পোস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তিনি লেখেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি ও পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষের পর কঠোর প্রতিক্রিয়া জাতীয় সম্মানকে কেবল একটি বিলাসিতা নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ হিসেবে তুলে ধরে।

গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক শীতল হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করায় সম্পর্ক আরও জটিলতর হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মোদী সরকারের দৃঢ় অবস্থান বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছে যে ভারতের নীতিনির্ধারকরা নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও সম্মানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। জাকি শালোম বলেন, মোদীর কড়া প্রতিক্রিয়া কেবল অর্থনৈতিক বা সামরিক উত্তেজনার কারণে নয়, বরং জাতীয় সম্মানকে আঘাত করার অনুভূতির ফলাফল।

শালোম ইসরায়েল সরকারের সমালোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, গাজার খান ইউনিসে নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলার পর ইসরায়েলি সরকারের তাড়াহুড়ো প্রতিক্রিয়া মূলত আন্তর্জাতিক জনমত শান্ত করার উদ্দেশ্যে হলেও তা দেশের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তিনি বলছেন, ইসরায়েলও ভারতের মতো দৃঢ় মনোভাব নিয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেছেন, “ভারত যখন ট্রাম্পের চাপের মুখে পড়ে, মোদী ক্ষমা চাওয়ার বদলে শক্তিশালীভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। জাতীয় সম্মান রক্ষার এই মনোভাব দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত শক্তির অন্যতম চাবিকাঠি।”

শালোম শেষ করেন এভাবে, “জাতীয় সম্মান রক্ষা করা শুধু মর্যাদা নয়, এটি দেশের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কৌশলগত অবস্থান দৃঢ় করার মূল হাতিয়ার। ইসরায়েলও যদি বিশ্বে নিজের স্থান আরও শক্তিশালী করতে চায়, তবে কঠোর ও দৃঢ় অবস্থান নিয়ে কাজ করা উচিত।”

বিশ্লেষকরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও কৌশলে জাতীয় সম্মানের মূল্য অপরিসীম। ভারত ও ইসরায়েলের মতো দেশগুলো এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিজেদের কৌশল নির্ধারণ করলে গ্লোবাল জিওপলিটিক্সে তাদের প্রভাব আরও বৃদ্ধিপাবে।