Wednesday, December 10, 2025
Latestআন্তর্জাতিক

মুক্ত বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করতে ভারতে আসছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এই সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় থাকবে অ-শুল্ক বাধা, বাজার প্রবেশাধিকার এবং সরকারি ক্রয়ের মতো মূল ইস্যু। দুই পক্ষই আশা করছে বছরের শেষ নাগাদ বাণিজ্য চুক্তির চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছতে পারবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহগুলোতে নয়াদিল্লি ও ব্রাসেলসে ভারত ও ইইউ প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে অনুষ্ঠিতব্য ভারত-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে কৌশলগত অ্যাজেন্ডা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ডেলিভারেবল নির্ধারণের লক্ষ্যে এগুলি সংগঠিত হচ্ছে। এছাড়া শুধু বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয় নয়, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যকলাপ নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

১৩তম দফার বাণিজ্য আলোচনার জন্য ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ইইউ বাণিজ্য কমিশনার মারোস সেফকোভিচ এবং কৃষি কমিশনার ক্রিস্টোফ হ্যানসেন নয়াদিল্লি সফরে আসবেন। ভারতীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মোট ২৩টি ইস্যুর মধ্যে ইতিমধ্যে ১১টি বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।

তবে এই বৈঠকের পূর্বাভাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইইউকে পরোক্ষভাবে বার্তা দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার মাধ্যমে পুতিনের যুদ্ধে অর্থায়ন করছে। এর আগেই আমেরিকা ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিল। এই অবস্থার মধ্যে মার্কিন রাজস্ব সচিব স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘আমরা এখন একটা প্রতিযোগিতায় রয়েছি, ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী কতক্ষণ টিকে থাকবে বনাম রাশিয়ার অর্থনীতি কতক্ষণ টিকে থাকবে। যদি আমেরিকা ও ইইউ একযোগে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে, তবে রাশিয়ার অর্থনীতি ভেঙে পড়বে এবং প্রেসিডেন্ট পুতিন আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য হবেন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি আছে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর, তবে ইউরোপীয় অংশীদারদেরও এই পথে এগিয়ে আসা উচিত।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত-ইইউ বাণিজ্য আলোচনার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, গ্লোবাল জিওপলিটিক্সের দিক থেকেও এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতীয় বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই চুক্তি একদিকে ভারতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক হবে, অন্যদিকে আমেরিকার চাপে ইইউ-ভারত সম্পর্কের নতুন মাত্রা গড়ে তুলবে।