Tuesday, May 12, 2026
Latestদেশ

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বাতিল হল নিট, তদন্ত করবে CBI

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: নিট-ইউজি ২০২৬ (NEET UG 2026) পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের গুরুতর অভিযোগ সামনে আসতেই শেষমেশ পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA তথা National Testing Agency)। ৩ মে সারা দেশে অনুষ্ঠিত হওয়া এই মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে এনটিএ। একই সঙ্গে গোটা ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে সিবিআইকে।

কী অভিযোগ উঠেছে?

পরীক্ষার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজস্থানে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসে। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে দাবি, পরীক্ষার অন্তত এক মাস আগেই কিছু পরীক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে গিয়েছিল সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র। সেখানে ছিল প্রায় ৪১০টি প্রশ্ন। পরে মূল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়, রসায়নের অন্তত ১২০টি প্রশ্ন হুবহু মিলে গিয়েছে। শুধু প্রশ্ন নয়, উত্তর বিকল্পও একই ছিল বলে অভিযোগ।

আরও একটি সূত্রের দাবি, মোট ২৮১টি সম্ভাব্য প্রশ্নের মধ্যে ১৩৫টি প্রশ্ন সরাসরি মূল পরীক্ষার সঙ্গে মিলে যায়। ফলে গোটা পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অভিযোগ ওঠে, একটি চক্র মোটা টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগেই বাইরে ছড়িয়ে দিয়েছিল।

রাজনৈতিক চাপ বাড়তেই পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, এটি ২০২৪ সালের নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার এবং পরীক্ষার পরিচালনাকারী সংস্থা বারবার একই ধরনের ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি করছে।

একই সঙ্গে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। বিরোধীদের চাপ এবং দেশজুড়ে বাড়তে থাকা ক্ষোভের মধ্যেই শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে এনটিএ।

ফের পরীক্ষা কবে অনুষ্ঠিত হবে?

এনটিএ জানিয়েছে, নতুন করে পরীক্ষার জন্য কোনও পরীক্ষার্থীকে নতুন আবেদন করতে হবে না। অতিরিক্ত কোনও ফিও নেওয়া হবে না। বরং আগেরবার জমা করা পরীক্ষার ফি ফেরত দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। নতুন পরীক্ষার তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে। পরীক্ষার্থীদের নিয়মিত এনটিএ-র সরকারি ওয়েবসাইট নজরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নতুন অ্যাডমিট কার্ডও প্রকাশ করা হবে।

চরম উদ্বেগে পরীক্ষার্থীরা

পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরাই। মাসের পর মাস ধরে প্রস্তুতি, কোচিং, মানসিক চাপ এবং পরিশ্রমের পর আবার নতুন করে পরীক্ষায় বসতে হবে—এই পরিস্থিতি বহু পড়ুয়ার মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, এই সময়, শ্রম এবং মানসিক চাপের দায় কে নেবে?

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ শুধু পরীক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই ধাক্কা দিচ্ছে না, একই সঙ্গে লক্ষ লক্ষ মেধাবী ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎকেও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।