Monday, December 15, 2025
Latestরাজ্য​

কাকদ্বীপে আইনজীবীর চেম্বারে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার আইনের ছাত্রী সোনিয়া হালদারের

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে আইনের ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা। বুধবার রাতে প্রাতপদিত্য গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার আইনজীবীর চেম্বার থেকে উদ্ধার হয় ২১ বছরের সোনিয়া হালদারের ঝুলন্ত দেহ। গন্ধরাজনগরের বাসিন্দা সোনিয়া প্রথম বর্ষের আইন বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি আইন প্রাকটিসের জন্য তিনি নিয়মিত আইনজীবী শেখ মনোয়ার আলমের চেম্বারে যাতায়াত করতেন।

বুধবার রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের তরফে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। চেম্বারে গিয়ে দেখা যায় মনোয়ার আলমের চেম্বারের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। দরজা ভেঙে ঢোকার পর সোনিয়ার নিথর দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে এবং অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা করেছে।

তরুণীর ব্যাগ থেকে উদ্ধার চিঠি

সোনিয়ার ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি চিঠি। চিঠিতে সোনিয়া এবং ওই আইনজীবীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। পরিবারের অভিযোগ—দীর্ঘদিনের সম্পর্কে ভাঙন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং মানসিক নির্যাতনেই ভেঙে পড়েছিলেন সোনিয়া। তাদের দাবি, এই মানসিক চাপই তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছে।

অভিযুক্ত আইনজীবী পলাতক

ঘটনার পর থেকেই আইনজীবী শেখ মনোয়ার আলম পলাতক। তাকে খুঁজতে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। চেম্বারের নথি, চিঠি, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সোনিয়ার মোবাইল ফোন—সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বলছেন, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ইঙ্গিত মিললেও সম্ভাব্য খুনসহ সমস্ত দিক থেকেই তদন্ত করা হচ্ছে।

পরিবারের লিখিত অভিযোগ

সোনিয়ার পরিবার লিখিত অভিযোগে আইনজীবীর বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনেছেন। সোনিয়ার মা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, “যাকে বিশ্বাস করেছিল, সেই বিশ্বাস ভেঙেছে। মেয়েটা এই বিশ্বাসঘাতকতা সহ্য করতে পারেনি।”

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও ডিজিটাল প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। অভিযুক্তকে ধরার চেষ্টা চলছে।

এদিকে এই ঘটনায় বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। টুইটে সুকান্ত মজুমদার লিখেছেন, “কাকদ্বীপের আইনের ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত শেখ মনোয়ার আলম তৃণমূল নেতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ। পুলিশ শাসকদলের ক্ষমতাবানদের রক্ষা করে চলেছে। এক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। ধিক্কার জানাই পুলিশ প্রশাসন এবং শাসকদলকে।”