Wednesday, March 4, 2026
দেশ

IIT খড়্গপুর থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাসাচুসেটস থেকে স্নাতকোত্তর, ‘গোয়ালা’র আয় বছরে ৪৪ কোটি টাকা

হায়দারাবাদ: সেই আদিম কাল থেকে আমাদের টার্গেট বলা চলে সেই একটাই -‘সরকারি চাকরি’। যার জন্য আমরা প্রচন্ড পরিশ্রম করে থাকি। অনেকে এটিকে সোনার হরিণ হিসাবে অভিহিত করে থাকেন! তাই বছরের পর বছর সরকারি চাকরির জন্যে আমরা দৌড়ঝাপ অব্যাহত রাখি। তবে চিরচারিত এই ধ্যান-ধারণার বাইরে কিছু করে দেখালেন কিশোর ইন্দুকুরি।

খড়গপুর আইআইটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন তিনি। এরপর পাড়ি দেন আমেরিকায়। ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পলিমার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২০০১ সালে স্নাতকোত্তর হন। ২০০৫ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ২০০৫ সালেই ইনটেলের এরিয়া কোঅর্ডিনেটর এবং সিনিয়র প্রসেস ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজে যোগদান করেন। আমেরিকান বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানি তথা বিশ্বের সর্ববৃহৎ সেমিকন্ডাক্টর চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ইন্টেলে মোটা মাইনের চাকরি। তবে ২০১২ সালে এই সংস্থার থেকে ইস্তফা দেন তিনি। মোটা মাইনের চাকরি হওয়া সত্বেও কিছুতেই মন বসছিল না কিশোরের।

কিশোর ইন্দুকুরি

২০১২ সালে চাকরি ছেড়ে আমেরিকা থেকে দেশে ফিরে আসেন তিনি। তবে তখনও তিনি জানতেন না দেশে ফিরে কি কাজ করবেন। কোন পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন। হায়দরাবাদে ফিরে এসে তিনি লক্ষ্য করেন সেখানে সাশ্রয়ী মূল্যে পুষ্টিকর খাঁটি দুধের খুব আকাল রয়েছে। তখন তিনি মনস্থির করে ফেলেন দুধের ব্যবসা করবেন। বিদেশি ডিগ্রি থাকা ইঞ্জিনিয়ার কিনা গরুর দুধের ব্যবসা করবেন! বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরে পাড়া-প্রতিবেশীরা ঠাট্টা তামাশা শুরু করেন।

তবে পাড়া-প্রতিবেশীরা কথায় পাত্তা দেননি কিশোর। বরং পরিবারকে পাশে নিয়ে জমানো টাকা থেকে প্রথমে ২০টি গরু কেনেন তিনি। নিজেরাই দুধ দুইয়ে বিক্রি করা শুরু করেন। ২০১২ সালে তিনি তাঁর ছেলে নামের ফার্মের নাম দেন ‘সিডস ফার্ম’। ৬ বছরে তাঁর গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ হাজার। গরুর সংখ্যা বৃদ্ধি করে এখন বড় ফার্মের মালিক কিশোর।

এখন প্রতিদিন ১০ হাজার পরিবার তাঁর ফার্ম থেকে গরুর দুধ কেনেন। তাঁর ফার্মে ১২০ জনেরও বেশি কর্মরত। কিশোর জানান, এখন তাঁর ব্যবসায় বছরে টার্নওভার ৪৪ কোটি টাকা। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁর ফার্ম থেকে গ্রাহকদের দুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।

Somoresh Sarkar

গুরুদাস কলেজ থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক এরপর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে ডিজিটাল সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত।