চিনকে পিছনে ফেলে বিশ্বের তৃতীয় শক্তিশালী বায়ুসেনা ভারতের
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বিশ্বের শক্তিশালী বিমানবাহিনীগুলির তালিকায় নতুন ইতিহাস গড়ল ভারত। আধুনিক সামরিক বিমানবাহিনীর নিরিখে ভারত এবার চিনকে পিছনে ফেললো। তৃতীয় স্থানে উঠে এল ভারত। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পরেই এখন ভারতের নাম। এই তথ্য উঠে এসেছে ‘ওয়ার্ল্ড ডিরেক্টরি অফ মডার্ন মিলিটারি এয়ারক্রাফট’ (WDMMA)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে।
🌐 বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে ভারতের উত্থান
WDMMA-এর প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী,
- যুক্তরাষ্ট্রের ‘ট্রু ভ্যালু রেটিং’ (TVR) — 242.9
- রাশিয়ার — 114.2
- ভারতের — 69.4
- চিনের — 63.8
এরপর স্থান পেয়েছে জাপান (58.1), ইসরায়েল (56.3) ও ফ্রান্স (55.3)। তালিকায় পাকিস্তান ১৮তম স্থানে আছে। পাকিস্তানের ‘ট্রু ভ্যালু রেটিং’ 46.3
WDMMA-র এই TVR রেটিং কেবল বিমানসংখ্যা নয়, বরং আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিকীকরণ এবং পাইলটদের প্রশিক্ষণকেও সমানভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।
🇮🇳 ভারতের বিমানবাহিনীর গঠন
WDMMA জানাচ্ছে, ভারতের বিমানবাহিনী বর্তমানে মোট ১,৭১৬টি বিমান পরিচালনা করে। এর মধ্যে—
- ৩১.৬% যুদ্ধবিমান (যেমন রাফাল, মিরাজ ২০০০, সু-৩০ এমকেআই, মিগ-২৯, তেজস)
- ২৯% হেলিকপ্টার
- ২১.৮% প্রশিক্ষণ বিমান
সম্প্রতি ভারত অবসর দিয়েছে তার সোভিয়েত যুগের MiG-21 ফাইটার জেট, যা ছয় দশক ধরে দেশের আকাশরক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে — ১৯৬০-এর দশক থেকে শুরু করে পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সংঘাতে, এমনকি বালাকোট স্ট্রাইক পর্যন্ত।
✈️ আগামীর পরিকল্পনা: ৬০০-র বেশি নতুন যুদ্ধবিমান
ভারতীয় বায়ুসেনা আগামী দুই দশকে ৬০০-র বেশি নতুন যুদ্ধবিমান যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে —
- ১৮০টি LCA-Mk1A,
- ১২০টির বেশি LCA-Mk2,
- ১১৪টি MRFA,
- এবং অন্তত ১২০টি AMCA (Advanced Medium Combat Aircraft)।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, দেশীয় প্রকল্পে তৈরি AMCA প্রস্তুতির সময়েই ভারত অন্তর্বর্তীকালীনভাবে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কিনতে পারে। এর সম্ভাব্য বিকল্প হল রাশিয়ার SU-57 বা আমেরিকার F-35।
🇨🇳 চিনের সঙ্গে তুলনা
চিনের People’s Liberation Army Air Force (PLAAF)-এর কাছে যদিও ৩,৭৩৩টি বিমান রয়েছে, তবুও গুণগত মানে ভারত এগিয়ে।
PLAAF-এর ৫২.৯% যুদ্ধবিমান এবং ২৮.৪% প্রশিক্ষণ বিমান হলেও, ভারতীয় বাহিনীর ভারসাম্যপূর্ণ গঠন ও উন্নত প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এই এগিয়ে থাকার মূল কারণ বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
চিনের কাছে আধুনিক J-20 ও J-35 পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ জেট রয়েছে, পাশাপাশি সম্প্রতি তারা J-36 নামে এক সম্ভাব্য ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানও উন্মোচন করেছে। কিন্তু ভারতীয় বায়ুসেনার দ্রুত আধুনিকীকরণ এবং বহুমুখী যুদ্ধ সক্ষমতাই তাকে চীনের ওপরে তুলেছে।
⚔️ কৌশলগত ভারসাম্যের নতুন অধ্যায়
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই উত্থান এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে এক বড় পরিবর্তন। অপারেশন সিঁদুরের সময়ই প্রমাণ হয়েছে— আধুনিক ও শক্তিশালী বিমানবাহিনী যুদ্ধের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। এবার আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংও সেই বাস্তবতাকেই প্রতিফলিত করল।


