রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নজিরবিহীন প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। রবিবার বিকালে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পরই সরিয়ে দেওয়া হল রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোট প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
নন্দিনী চক্রবর্তীর জায়গায় নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে। এতদিন তিনি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলা ও সেচ দফতরের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি।
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রসচিব পদ থেকে জগদীশপ্রসাদ মীনাকে সরিয়ে সেই পদে আনা হয়েছে ১৯৯৭ ব্যাচের আইএএস অফিসার সংঘমিত্রা ঘোষকে। এতদিন তিনি নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের প্রধান সচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ৩টার মধ্যেই নতুন দুই আমলাকে দায়িত্ব গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
নির্বাচনের আগে পুলিশ সুপার বা পুলিশ কমিশনারদের বদল নতুন নয়। তবে মুখ্যসচিব পর্যায়ের আমলাকে সরানোর ঘটনা খুবই বিরল। প্রশাসনিক মহলের মতে, ভোট প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই কমিশনের এই কঠোর পদক্ষেপ।
এর আগে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্য এবং সিআইডি প্রধান রাজীব কুমারকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে এবারের মতো একসঙ্গে মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব— দুই শীর্ষ প্রশাসনিক পদে পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন হবে মাত্র দুই দফায়। প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল ভোট হবে ১৪২টি আসনে। ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল আট দফায়। সেই তুলনায় এবারের ভোট মাত্র দুই দফায় হওয়ায় তা সাম্প্রতিক সময়ের একটি বড় পরিবর্তন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


