Thursday, November 5, 2026
Latestদেশ

লাদাখে তৈরি হবে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশন, চিনের রেকর্ড ভাঙবে ভারত? খরচ হবে ১.৩১ লাখ কোটি টাকা

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: লাদাখে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭,২৪৪ ফুট (৫,২৫৬ মিটার) উচ্চতায় বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশন তৈরির পরিকল্পনা করছে ভারত। প্রায় ১.৩১ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ বিলাসপুর–মানালি–লে রেলপথ নির্মাণের প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশনের রেকর্ড ভারতের দখলে থাকবে।

প্রস্তাবিত রেলস্টেশনটি লাদাখের তাংলাং লা গিরিপথের নীচে তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর উচ্চতা হবে প্রায় ১৭,২৪৪ ফুট বা ৫,২৫৬ মিটার। বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশনের রেকর্ড রয়েছে চিনের তাংগুলা রেলস্টেশনের দখলে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫,০৬৮ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত ওই স্টেশনের তুলনায় ভারতের প্রস্তাবিত স্টেশনটি প্রায় ১৮৮ মিটার বেশি উচ্চতায় তৈরি হবে।

প্রস্তাবিত ৪৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথটি হিমাচল প্রদেশের বিলাসপুর থেকে মানালি হয়ে লাদাখের লে পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এই রেলপথে সুন্দরনগর, মান্ডি, মানালি, কেলং, সারচু, পাং, রুমসে এবং উপশি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে দুর্গম হিমালয় অঞ্চলে এই রেলপথ নির্মাণ যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হতে চলেছে। প্রস্তাবিত ৪৮৯ কিলোমিটার রেলপথের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার অংশই সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভূমিকম্পের ঝুঁকি, তুষারধস, হিমবাহ, অত্যন্ত কম তাপমাত্রা এবং দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি নির্মাণকাজকে কঠিন করে তুলবে।

প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১.৩১ লক্ষ কোটি টাকা। বাস্তবায়িত হলে এটি ভারতের অন্যতম ব্যয়বহুল রেল প্রকল্প হয়ে উঠবে। ব্রডগেজ লাইনের মাধ্যমে লাদাখকে দেশের রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করাই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। বর্তমানে লাদাখের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে মূলত পাহাড়ি সড়কপথের উপর নির্ভর করতে হয়।

ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প?

যাত্রী পরিবহণের পাশাপাশি কৌশলগত ও সামরিক দিক থেকেও এই রেলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। চিন সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল এলাকায় সেনা, সামরিক সরঞ্জাম, জ্বালানি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পাশাপাশি সারা বছর যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পরিবহণের সময় ও খরচ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, হিমাচল প্রদেশ ও লাদাখের মধ্যে রেল যোগাযোগ গড়ে উঠলে পর্যটন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে পরিবেশগত দিক থেকেও প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হিমালয়ের ভঙ্গুর পরিবেশ ও উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে নির্মাণকাজের ফলে যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

কবে শেষ হবে বিলাসপুর–মানালি–লে রেল প্রকল্প?

এই মুহূর্তে প্রকল্পটি পরিকল্পনার পর্যায়েই রয়েছে। রেল মন্ত্রকের তরফে সমীক্ষার কাজ শেষ করে বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (DPR) তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১.৩১ লক্ষ কোটি টাকা।