Thursday, November 5, 2026
Latestদেশ

উত্তরপ্রদেশে দীপাবলি ও হোলিতে বিনামূল্যে LPG সিলিন্ডার পাবেন উজ্জ্বলা যোজনার উপভোক্তারা, রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে ঘোষণা যোগী সরকারের

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ঘোষণা করেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আওতাভুক্ত যোগ্য দরিদ্র পরিবারগুলিকে দীপাবলি ও হোলি উপলক্ষে একটি করে বিনামূল্যে LPG সিলিন্ডার দেওয়া হবে।’ মঙ্গলবার রাজ্যের ১ কোটি ৮৯ লক্ষেরও বেশি উপভোক্তার জন্য রান্নার গ্যাসের রিফিল ভর্তুকি বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই ঘোষণা করেন তিনি।

এই প্রকল্পে যোগ্য উপভোক্তাদের LPG সিলিন্ডার রিফিলের ভর্তুকি দেওয়ার জন্য ১,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।

অনুষ্ঠানে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভর্তুকির হিসাব তুলে ধরেন যোগী আদিত্যনাথ। তিনি জানান, একটি গার্হস্থ্য LPG সিলিন্ডারের দাম ৯৮৩.৪৫ টাকা। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার ৩৩৫ টাকা ভর্তুকি দেয়। ফলে উপভোক্তাকে নিজের পকেট থেকে দিতে হয় ৬৪৮.৫৫ টাকা।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় থাকা দরিদ্র পরিবারগুলিকে দীপাবলি ও হোলিতে একটি করে বিনামূল্যে সিলিন্ডার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।’ তাঁর কথায়, “গ্যাসের জন্য যে টাকা সাশ্রয় হবে, সেই টাকা দিয়ে আপনারা দীপাবলির মিষ্টি ও প্রদীপ কিনতে পারবেন।”

এদিন কংগ্রেস সরকারের আমলের সঙ্গে বর্তমান সরকারের তুলনা টেনে যোগী বলেন, ‘আগে একটি গ্যাস সংযোগ পেতেও সাধারণ মানুষকে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হত। কিন্তু বর্তমান সরকার দরিদ্র পরিবারগুলিকে বিনামূল্যে গ্যাস সংযোগ দিয়েছে। এটাই সুশাসনের উদাহরণ।’

দীপাবলিকে সামাজিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরলেন যোগী

অন্যদিকে, আগামী ৭ নভেম্বর অযোধ্যায় আয়োজিত হতে চলেছে দীপাবলি। এই অনুষ্ঠানকে সামাজিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে তাঁর অযোধ্যা সফরের কথা রয়েছে।

এক্স পোস্টে যোগী বলেন, ‘অতীতে জাতপাতের বিভাজনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু ২০১৭ সালে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে দীপাবলি শুরু হওয়ার পর অযোধ্যার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষের মিলন উৎসবে পরিণত হয়েছে।’

যোগীর কথায়, “বিভিন্ন মানুষের হাতে প্রদীপ জ্বলে, কিন্তু সেই প্রদীপের আলো গোটা সমাজকে একসূত্রে বেঁধে রাখে। এটাই দীপোৎসবের বার্তা।”

তিনি আরও বলেন, ‘জাতপাতের কঠোর বিভাজন সমাজকে আলাদা করে দেয়। অন্যদিকে, অভিন্ন বিশ্বাস ও সংস্কৃতি মানুষকে একসূত্রে বেঁধে রাখে। ২০১৭ সালের আগে জাতপাতের রাজনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া সরকারগুলি সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার এই সাংস্কৃতিক শক্তিকে উপেক্ষা করেছিল। বর্তমান ডাবল ইঞ্জিন সরকার ২০১৭ সালে দীপাবলি উৎসবের সূচনা করে অযোধ্যার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সর্বস্তরের মানুষের উৎসবে পরিণত করেছে।’