Saturday, September 5, 2026
Latestসম্পাদকীয়

মাত্র ১০% শিক্ষক এবং ৫% ছাত্রছাত্রী পুরো যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে চালাচ্ছে দশকের পরে দশক, মুখ খুললেই হয় ডঃ অভিজিৎ চক্রবর্তী, নয় স্বপ্নদীপ; কোন আদালত, প্রশাসন পুলিশের এখানে প্রবেশ অধিকার নেই: সুদীপ্ত গুহ

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: যাদবপুরের গ্রাম থেকে আসা গরীব মধ্যবিত্ত ছেলেমেয়েদের উপরে শহুরে নক্সাল সিপিএম ছাত্র, শিক্ষক সংগঠনের নেতারা কতভাবে অন্যায় করে একটু জানুন আজ l যাদবপুর হোস্টেলে বহু টয়লেটের দরজা জানলা ভাঙা, কমন স্পেস চাঙ্গর ভেঙে পড়ছে, ওয়াটার প্রুফ ভয়ঙ্কর এবং উপরের তলায় বর্ষায় ঘরে জল আসে , মশার সমস্যা এবং কয়েক বছর আগে একটা গ্রামের সংখ্যালঘু ছেলে মারা গেছে ডেঙ্গিতে, কমন কিচেন ডাইনিং এর অবস্থা ভয়ঙ্কর, গ্যাস ব্যাংক তৈরি হয় নি কিচেনে l গত ৩০ বছর এক সমস্যা l অধ্যাপকরা বলেন পয়সা দিচ্ছে না রাজ্য সরকার আর রাজ্য বলে কেন্দ্র l অথচ কেন্দ্র সরকারের রুসা প্রজেক্টের পয়সায় একের পর এক শিক্ষিক বিদেশে ভ্রমণ করেন যখন তখন টাকা আছে l হোস্টেল দশ পনেরো বছর পাশ করা রাজনৈতিক নেতারাদের দখলে l কারণ মাথায় হাত পার্থবাবুদের l 

কয়েক বছর আগে উপাচার্য সুরঞ্জন দাস টাকা নেই বলে প্রাক্তনীদের কাছে টাকা চান l কিন্তু টাকা নেই কেন? যে সব শিক্ষক কন্সালটেন্সি করেন বা টেস্ট করেন, তাঁদের বড় অংশ ৭০% থেকে ৮০% টাকা ক্যাশে নেন l করো আবার কোম্পানি খোলা আছে l সেখানে আলাদা ভাবে নেন l ফলে ১০০ টাকার কাজ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেখানে ৬০  টাকা আয়ের প্রয়োজন, সেখানে পায় মাত্র ১২ বা ১৮ টাকা l আপনারা আজ চাইলে আজ আমি কম করে হাফ ডজন অধ্যাপকের নাম বলবো যা দেখলে পার্থর অর্পিতার খাটের তলা আপনাদের কিছু মনে হবে না l সুরঞ্জন সব জানতেন l কারণ তার ছাতাই তো সবাইকে রক্ষা করতো এক দশক l

এই খেলা ধরে ফেলেন তৎকালীন উপাচার্য ডঃ অভিজিৎ চক্রবর্তী l ব্যস l এবার মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ছাত্র খেপিয়ে “হোক কালোরবের ” নামে তাকে তাড়ানো হল l আনা হল বামপন্থী শিক্ষকদের দ্রোনচার্য সুরঞ্জন দাসকে l যাদবপুর ভারতের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে আচার্য, শিক্ষা মন্ত্রী থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের প্রতিনিধি ঢুকলেই আন্দোলন শুরু হয়ে যায় l কেন? কারণ কোটি কোটি টাকা এখানে উড়ছে l মাত্র ১০% শিক্ষক এবং ৫% ছাত্রছাত্রী এই পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে চালাচ্ছে দশকের পরে দশক l মুখ খুলেই হয় ডঃ অভিজিৎ চক্রবর্তী, নয় স্বপ্নদীপ l কোন আদালত, প্রশাসন পুলিশের এখানে প্রবেশ অধিকার নেই l

লিখেছেন: সুদীপ্ত গুহ (মতামত লেখকের নিজস্ব)