Sunday, August 2, 2026
Latestরাজ্য​

শনিবার ৫৯৬৬ জনের হাতে নাগরিকত্বের শংসাপত্র দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের মাত্র ১১ সপ্তাহের মধ্যেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপের দাবি করল বিজেপি সরকার। ১ আগস্ট নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নাগরিকত্বের শংসাপত্র তুলে দিলেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ সপ্তাহে মোট ৫,৯৬৬ জন নাগরিকত্ব পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘CAA কার্যকর হওয়ার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে মোট ২,৩০,৬০৫টি আবেদন জমা পড়েছে। তার মধ্যে গত ১১ সপ্তাহে ৫,৯৬৬ জনকে নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মোট ২৩,৯৫৬ জন নাগরিকত্ব পেয়েছেন। ঝুলে তারা আবেদনগুলি আগামী ৬ মাসের মধ্যে যাচাই করে দেখা হবে।’

এদিন প্রায় ৩০০ জন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষও নাগরিকত্বের শংসাপত্র গ্রহণ করেন।

CAA নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “CAA নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার আইন নয়, বরং নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন।” তিনি দাবি করেন, আইনে কোথাও মুসলিমদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার কথা উল্লেখ নেই। তাঁর বক্তব্য, আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪-এর মধ্যে ভারতে আসা অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়াই এই আইনের উদ্দেশ্য। 

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, যারা এখনও CAA-এর আওতায় আবেদন করেননি, তারা দ্রুত আবেদন করুন। তিনি বলেন, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ কেন্দ্র সরকার একটি পৃথক নির্দেশিকা জারি করেছে, যেখানে বলা হয়েছে যে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪-এর আগে বাংলাদেশ থেকে প্রাণ ও ধর্ম রক্ষার জন্য ভারতে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা করা হবে না এবং পুলিশও তাদের হয়রানি করবে না।

তিনি আরও বলেন, CAA-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার কারণে যদি কেউ কারাগারে থাকেন, তাহলে তাদের মুক্তির জন্য সরকার উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভারতে আসা ব্যক্তিদের জন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে। নাগরিকত্বের পর তাদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কাজও আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে বলে তিনি জানান।

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, CAA-তে আবেদন করার ফলে চাকরি, রেশন সুবিধা বা অন্নপূর্ণা ভান্ডারের মতো আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের ক্ষতি হবে বলে দাবি করে মিথ্যা প্রচার করেছিল। এসব গুজবে কান দেবেন না। 

রাজ্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনও যোগ্য আবেদনকারী সিএএ সম্পর্কিত বিষয়ে হয়রানির মুখোমুখি না হয় তা নিশ্চিত করতে। রাজ্য সরকার নাগরিকত্ব মঞ্জুর করার পরে ভোটার তালিকায় সুবিধাভোগীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুবিধাও দেবে এবং যোগ্য আবেদনকারীরা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তফসিলি জাতি শংসাপত্র পান তা নিশ্চিত করবে।

সুবিধাভোগীদের মধ্যে একজন, বাংলাদেশের বাগেরহাটের একজন নারী শরণার্থী, তার নাগরিকত্বের শংসাপত্র পাওয়ার পর সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশের বাগেরহাটে থাকতাম এবং ২০০৬ সালে ভারতে আসি। এত বছর ধরে ভয়ে বাস করছিলাম। আমি প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।”

এই কর্মসূচির মাধ্যমে CAA বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি উদ্বাস্তু হিন্দুদের নাগরিকত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেই দাবি করেছে রাজ্য সরকার।