Thursday, June 25, 2026
Latestকলকাতা

তারাতলা বিপর্যয়: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯, গ্রেফতার ৫

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ একটি গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯-এ পৌঁছেছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহতদের এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা চলছে।

ঘটনার পরপরই তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশ এখনও পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন গোডাউনের মালিক শম্ভুনাথ বেহরা, স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার কমল সামন্ত, সুপারভাইজার সৈয়দ মহম্মদ গুলজার এবং দুই শ্রমিক সরবরাহকারী মহম্মদ আতায়ুল ও সুভাষ সরকার। গোডাউনের মালিকের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বহুতল নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের বিধিভঙ্গ, গাফিলতি বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, নির্মাণকাজে জড়িত আরও কয়েকজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আগামী দিনে এই মামলায় আরও গ্রেফতারি হতে পারে।

এদিকে, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-এর উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বেশ কয়েকজন আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। বুধবারের দুর্ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জোরকদমে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে বুধবার রাতেই তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। এই দলে রয়েছেন লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের এসিপি জয়সূর্য মুখোপাধ্যায়, হোমিসাইড বিভাগের অফিসার-ইন-চার্জ দেবাশিস দত্ত, গোয়েন্দা বিভাগের ইন্সপেক্টর হিরক দলপতি, গুণ্ডাদমন শাখার ইন্সপেক্টর সরফরাজ আহমেদ, তারাতলা থানার সাব-ইন্সপেক্টর মানস ভট্টাচার্য এবং সাব-ইন্সপেক্টর কুশল মণ্ডল।

তারাতলার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নির্মাণ সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলা এবং শ্রমিকদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের।