Wednesday, May 13, 2026
Latestদেশ

Vijay’s astrologer Radhan Pandit: ব্যক্তিগত জ্যোতিষীকে বিশেষ কর্মকর্তা পদে বসিয়ে বিতর্কে জোসেফ বিজয়

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক বিতর্কে অভিনেতা-রাজনীতিক জোসেফ বিজয়। রাজ্য সংগীত সংক্রান্ত বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নিজের ব্যক্তিগত জ্যোতিষী রাধন পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ কর্মকর্তা (ওএসডি) পদে নিয়োগ করে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়লেন তিনি। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

জানা গিয়েছে, রাধন পণ্ডিত ভেট্রিভেল দীর্ঘদিন ধরেই বিজয়ের ঘনিষ্ঠ। তিনি শুধু জ্যোতিষী নন, বিজয়ের দল টিভিকে’র মুখপাত্র হিসেবেও পরিচিত। নির্বাচনি প্রচারের সময় থেকে দলের কৌশলগত নানা কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। এমনকি ভোট গণনার দিন যখন টিভিকে অপ্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে যেতে শুরু করে, তখন প্রথম বিজয়ের বাসভবনে পৌঁছে তাকে অভিনন্দন জানান রাধন পণ্ডিতই। নির্বাচনের আগেই তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে বিজয়ের দল ভূমিধস জয় পাবে।

তবে মুখ্যমন্ত্রীর ওএসডি পদে একজন জ্যোতিষীর নিয়োগ মোটেই ভালভাবে নেয়নি রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বিশেষ করে বিজয়ের শরিক দল কংগ্রেসের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ শশীকান্ত সেন্থিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ কটাক্ষ করে লেখেন, “আমি বুঝতে পারছি না একজন জ্যোতিষীর কেন ওএসডি পদ প্রয়োজন? কেউ কি ব্যাখ্যা করবেন?”

অন্যদিকে বিরোধী দল ডিএমকে-ও এই ইস্যুতে সরব হয়েছে। ডিএমকে বরাবরই যুক্তিবাদী রাজনীতির পক্ষে এবং জ্যোতিষচর্চা বা কুসংস্কারের বিরোধী হিসেবে পরিচিত। ফলে বিজয়ের এই পদক্ষেপকে তারা রাজনৈতিকভাবে আক্রমণের নতুন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছে।

দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে জ্যোতিষীদের প্রভাব অবশ্য নতুন নয়। অতীতে জয়ললিতা-র সঙ্গেও রাধন পণ্ডিত ভেট্রিভেলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে প্রচলিত। শোনা যায়, জয়ললিতার আমলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই জ্যোতিষীর পরামর্শ নেওয়া হতো। যদিও পরে আয়বহির্ভূত সম্পত্তি মামলায় জয়ললিতার জেল হবে না বলে তার ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণিত হওয়ার পর সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

প্রসঙ্গত, তামিলনাড়ুর ২৩৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে বিজয়ের দল টিভিকে ১০৮টি আসনে জয় পেয়েছে। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনের জন্য কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিএম এবং ভিসিকে-র সমর্থনের উপর নির্ভর করতে হয়েছে বিজয়কে। সেই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে জোট রাজনীতিতে নতুন অস্বস্তি তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।