গ্রেফতার বাংলাপক্ষের প্রধান গর্গ চট্টোপাধ্যায়
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ইভিএম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং সমাজমাধ্যমে ‘প্ররোচনামূলক’ তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হল বাংলা পক্ষের প্রধান গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে। মঙ্গলবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা। জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। লালবাজার সূত্রে খবর, বুধবার সকালে তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।
এবারের বিধানসভা নির্বাচন চলাকালীন একাধিকবার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমের নিরপেক্ষতা এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন গর্গ চট্টোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে তাঁর পোস্ট, ভিডিও বার্তা এবং বিভিন্ন মন্তব্যকে ঘিরে নজরদারি চালাচ্ছিল প্রশাসন। অভিযোগ, তিনি ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অবিশ্বাস তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন।
নির্বাচন কমিশনের অভিযোগ অনুযায়ী, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হল অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন। সেই প্রক্রিয়া সম্পর্কে মানুষের আস্থা নষ্ট করতে পারে— এমন কোনও মন্তব্য বা গুজব ছড়ানো আইনত অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে সাইবার সেল।
নির্বাচনের সময় গর্গ চট্টোপাধ্যায় প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন, ভোটগ্রহণ শেষে কড়া নিরাপত্তায় ইভিএম সংরক্ষিত থাকার পরেও কেন ভোটগণনার দিনে একাধিক মেশিন বিকল হওয়ার অভিযোগ উঠছে, তার উত্তর নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে। তিনি ভোটারদের ভিভিপ্যাট স্লিপ খুঁটিয়ে দেখার পরামর্শও দিয়েছিলেন। পাশাপাশি কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। প্রশাসনের দাবি, এই ধরনের বক্তব্য সাধারণ মানুষের মনে অযথা আতঙ্ক ও সংশয় তৈরি করেছে।
এই ঘটনার পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলা পক্ষ সংগঠনটি। ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠন মূলত বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি এবং কর্মসংস্থানের অধিকারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। সরকারি দফতরে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, স্থানীয়দের চাকরিতে অগ্রাধিকার এবং বাঙালি পরিচয়ের প্রশ্নকে সামনে রেখেই সংগঠনের বিস্তার ঘটে। হিন্দি ভাষা ও উত্তর ভারতীয় সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরোধিতাও তাদের রাজনৈতিক-সামাজিক অবস্থানের অন্যতম অংশ ছিল।
বিধানসভা নির্বাচনের আগেও বিভিন্ন জেলায় সভা ও প্রচার কর্মসূচি চালিয়েছিল বাংলা পক্ষ। সেখানে বাঙালি আবেগ, আঞ্চলিক অধিকার এবং স্বাধিকারের প্রশ্নকে জোরালোভাবে তুলে ধরেছিলেন গর্গ চট্টোপাধ্যায়।
গ্রেফতারির পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। পুলিশের বক্তব্য, আইন মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং সমাজমাধ্যমে এমন কোনও তথ্য প্রচার করা যাবে না যা জনমনে বিভ্রান্তি বা উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে বাংলা পক্ষের সমর্থকদের দাবি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে দমন করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট— ভোট প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুজব বা বিভ্রান্তি বরদাস্ত করা হবে না। এখন আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। বুধবার আদালতে পেশ করার পর গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কী আইনি অবস্থান নেয় প্রশাসন, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।


