Thursday, April 30, 2026
কলকাতা

দ্বিতীয় দফার ভোটে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি, ৬৪ টিই অভিষেকের ডায়মন্ড হারবারে

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: প্রথম দফার ভোটপর্ব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও, দ্বিতীয় দফা ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বুধবার দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোটগ্রহণ শেষ হতেই রাজ্যের ৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের আবেদন জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। এই চারটি কেন্দ্রই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, পুনর্নির্বাচনের আবেদন পাওয়া বুথগুলির মধ্যে ফলতা বিধানসভায় ৩২টি, ডায়মন্ড হারবারে ২৯টি, বজবজে ৩টি এবং মগরাহাট পূর্বে ১৩টি বুথ রয়েছে। এর মধ্যে ফলতা, ডায়মন্ড হারবার এবং বজবজ—এই তিনটি কেন্দ্রই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের অন্তর্গত। অন্যদিকে, মগরাহাট পূর্ব পড়ে জয়নগর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে।

যদিও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, তবে প্রশাসনিক সূত্রে খবর, পুনর্নির্বাচনের অধিকাংশ দাবিই এসেছে প্রধান বিরোধী দল বিজেপির পক্ষ থেকে। ফলে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে থেকেই ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে উত্তেজনা ছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মার বিরুদ্ধে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির সামনে গিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের পক্ষ থেকে ওই পর্যবেক্ষকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

এছাড়াও, ভোটের দিন ফলতার ১৭০ ও ১৮৯ নম্বর বুথে ইভিএমে ‘টেপ’ লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, বুধবার দ্বিতীয় দফায় সাত জেলার ১৪২টি বিধানসভা আসনের ৪১,০০১টি বুথে ভোটগ্রহণ হয়েছে। এর আগে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি আসনের ৪৪,৩৭৬টি বুথে ভোট হলেও কোথাও পুনর্নির্বাচনের দাবি ওঠেনি। সেই তুলনায় দ্বিতীয় দফার পর এত সংখ্যক বুথে পুনর্নির্বাচনের আবেদন ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এখন নজর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে—এই অভিযোগগুলির ভিত্তিতে আদৌ পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হবে কিনা, সেটাই দেখার।